Showing posts with label কাওমি. Show all posts
Showing posts with label কাওমি. Show all posts

Monday, 26 September 2016

পরহেজগারীর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব


পরহেজগারীর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তরিকতের ইমাম হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী(রাঃ) ছাহেব যা বলেনঃ
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তিগণের সম্পর্কে খোশ খবর দিয়াছেন। তিনি কখনও বলিয়াছেন যে, তাহারা মুক্তিপ্রাপ্ত।কখনও বলিয়াছেন, সাফল্যের অধিকারী তাহারাই। বাস্তবিকই, দুনিয়া এবং আখেরাতের সমুদয় ইজ্জত ও কল্যাণের অধিকারী মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তিগণই। সুতরাং তাকওয়া বা পরহেজগারীর সঠিক সংজ্ঞা জানা আমাদের কর্তব্য।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফে-ছানী (রাহঃ) বলেনঃ
....... অতএব পরকালে মুক্তিলাভ হওয়া দুইটি কাজের উপর নির্ভর করে।
প্রথমতঃ আল্লাহ্তায়ালা যে আদেশ করিয়াছেন তাহা পালন করা।
দ্বিতীয়তঃ তিনি যাহা নিষেধ করিয়াছেন, উহা হইতে বিরত থাকা।
উক্ত দুইটির মধ্যে দ্বিতীয়টিই প্রধান। আর এই দ্বিতীয়টির নামই তাক্ওয়া বা পরহেজগারী।
একদা হযরত নবী করীম (ছঃ) এর পাক দরবারের কোন এক ব্যক্তিকে এবাদতে কঠোর সাধনাকারী এবং অপর একজনকে পরহেজগার বলিয়া উল্লেখ করা হইল। তাহা শুনিয়া হযরত নবী করীম (ছঃ) উপস্থিত লোকদের বলিলেন, তোমরা পরহেজগারীর সহিত অন্য কিছুরই তুলনা করিও না। জানিয়া রাখ, পরহেজগারী তোমাদের ধর্মের মূল এবং পরহেজগারীর কারণেই মানুষ ফেরেস্তা হইতে শ্রেষ্ঠতর মর্যাদার অধিকারী। (মকতুব নং ৭৬, প্রথম খন্ড)

Wednesday, 13 April 2016

মেরাজ তত্ত্ব

আমার মতে দয়াল নবী(সাঃ) এর মে'রাজ কেবল মাত্র স্বাপ্নিক বা আধ্যাত্মিক নহে। * রাসূলে পাক (সাঃ) এর নবুয়তের একাদশ বা দ্বাদশ বৎসরে যে মে'রাজ সংঘটিত হয় তাহা যেমনই আধ্যাত্মিক ছিল, তেমনি শারীরিকও ছিল। * নবীজী (সাঃ) দেহ ও আত্মাসহ সমষ্টিগত ভাবে মে'রাজে গমন করিয়াছিলেন। * তদীয় দেহ সাধারণ মানুষের দেহের অনুরুপ ছিল না। (খন্ড ১৭, পৃষ্টা ২৩)
* আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঐক্যবদ্ধ মত এই যে, জড় জগতে থাকিয়া চর্ম চক্খুতে আল্লাহতায়ালাকে দেখা সম্ভব নহে। এই ফকিরের মতও তাই। * নবীজী (সাঃ) এই জগত হইতে খোদাকে দেখিয়াছেন-এমন কথাতো আমরা বলিনা। মে'রাজ রজনীতে তিনি জড় জগত,নূরের জগত ও সিফাতের জগত পার হইয়া উচ্চতম প্রান্ত হোব্বে সেরফা হইতে কুওতে নজরিয়ার মাধ্যমে খোদাতায়ালাকে দেখিয়াছেন। * এখন কথা হইল-নবীজী(সাঃ) এর দর্শন চর্মচক্খুতে ছিল,নাকি আধ্যাত্মিক চক্খুতে ছিল? আমাদের বক্তব্য এই যে, নবীজী(সাঃ) মে'রাজ রজনীতে খোদাতায়ালাকে চর্ম চক্খুতেই দেখিয়াছিলেন। * ঊর্ধ্বজগতে নবীজী(সাঃ) এর ছিনা চাকের মাধ্যমে দেহকে টিকাইয়া রাখার ব্যাবস্থা যেমন খোদাতায়ালা করিয়াছিলেন, তেমনি জাতি নূরের প্রখরতা সহ্য করার শক্তিও তদীয় চক্খুতে তিনিই দান করিয়াছিলেন। * নবুয়তের একাদশ বা দ্বাদশ বৎসরের মে'রাজ শারীরিক বিধায় সেইবারের মে'রাজে খোদাদর্শনও ছিল দৈহিক চোখে। এতদ্বতীত আধ্যাত্মিক বা স্বাপ্নিক মে'রাজকালীন সময়ে খোদাদর্শন ছিল বাতেনী দৃষ্টিতে বা স্বপ্নে। (পৃষ্টা ৪১,৪২)
* শারীরিক মে'রাজ রাসূলে পাক (সাঃ) এর জন্য খাছ ছিল। তবে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আধ্যাত্মিক মে'রাজের দরজা খোলা আছে। (পৃষ্টা ৪৩)
* সালাত বা নামাজ মোমেনের জন্য মে'রাজ। (হাদীস) কাজেই বুঝা গেল, মে'রাজ ধন কেবলমাত্র নবীজীই (সাঃ) লাভ করিলেন না, প্রেমাস্পদ উম্মতের জন্যও তিনি তাহা চাহিয়া আনিলেন। আনিলেন তপ্ত অশ্রুর বিনিময়ে। এই মে'রাজ পাওয়া যায় নামাজের মধ্যে। তবে তাহা প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন রাসূলে পাক(সাঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরণ তথা জাহেরী ও বাতেনী অনুসরণ। কেবলমাত্র জাহেরী অনুসরণে নামাজে মে'রাজ বা দীদার পাওয়া যায় না। জাহেরী ওলামা সকলের বাতেনী অনুসরণ না থাকায় মে'রাজের নেয়ামততো দূরের কথা, সামান্য ঘ্রণও তাহারা পান না। *( নসিহত খন্ড ১৭, পৃষ্টা ৫১,৫২)

Tuesday, 15 March 2016

কওমিরা পীর মানার কারণ



আসকে কওমি থেকে বের হয়ে আসা পীরবাদী পীরেরা ব্যাবসার উদ্দেশ্যে পীরই সেসসেলা মেনেনিয়েছে যা সর্বজন স্বীকৃত। আমার কথাটা হয়তো বা কেহ স্বীকার করবেন না। কিন্তু কওমি মাদ্রাসার আয়ের বা ইনকামের উৎস কি? প্রতিটি কওমি মাদ্রাসার জন্য একএকটা ইন্ডাষ্ট্রী আছে নাকি? অবশ্যই নেই। যদি না থাকে তাহলে তাদের মাদ্রাসার ঘর,বইপত্র,বোর্ডিং,শিক্ষকদের বেতন ইত্যাদি খরচ কোথা থেকে আসে? তারপর ছাত্র-ছাত্রীদের একসময় কোন বেতনাদি ছিল না। আর তাদের কথা মতে সকল শিক্ষার্থীরা তো এতিম,মিসকিন,তথা বেওয়ারিশের মত কুড়ে পাওয়া । তাদের আবার বেতন আসে কোথাথেকে? তাহলে শিক্ষকদের বেতনাদীসহ অন্যান্য খরচ কোথাথেকে আসে? অবশ্যই দান-সদকা,যাকাত,ফেতরা,কোরবানীর চামড়া,মুষ্টি চাঁদা ইত্যাদি এসব তাদের আয়ের উৎস। সেই সাথে পীর মাশায়েখ অগ্রাহ্য করার পর যখন কোরানের ভাষায় ওলী,আওলীয়া, মুর্শিদ, ও ইমাম শব্দগুলো দেখল,তখন টনখ নড়ল,এগুলো কি?এর ভাব কি? এর দিকনির্দেশনা কি?যখন বিভিন্ন মুফাচ্ছিরীনে কিরাম এই শব্দ সমুহের শেষ স্তরেনায়েবে নবি প্রমান করলেন,তখন ধীরেধীরে হক্কানি পিরের নামে আরেকটা ব্যবসার উৎস খুলে নিলেন।প্রকৃত পীরের পথ বা সংঙা তারা যানে না।


প্রয়াত পীর মাওলানা ফজলুল করিম সাহেব বলেছিলেনঃ আটরশির পির যদি তাহার আস্তান থেকে বের হতে পারেন,তাহলে আমি আমার মুরিদানসহ মুরিদ হব। তাতে প্রমান করে তাহাদের ভাষায় পীর হতে হলে বাড়িবাড়ি গিয়ে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ বা তাবলীগকরতে হবে এবং মাদ্রাসা এতিম খানাসহ বিভিন্ন প্রকারের চাঁদা উঠাতে হবে। আর তারই পীরগিরি।

এই পীর ব্যবসার চান্দার নামে টাকার পাহাড় তৈরি করার পর ঐটাকা দিয়ে পীরের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে খলিফা হয়ার বা খলিফা করার জন্য আত্ন কলোহ করে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেওয়ার নাম পীরগিরি।তথকোথীত(তাদের ভাষায়)হক্কানী ওলামায়েকেরামেরা এর নাম পীরগিরি দিয়েছেন বলে তাদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের বাস্তবে তাই প্রমাণ করে।ইহা তাহাদের বোল এবং বোল পাল্টানোর কর্মকাণ্ডের প্রমানও করে। কেননা ভাই ভাই খলিফা হওয়ার বা খলিফা করার জন্য আত্নকলহ নেই এ রকম দরবার অর্থাৎ তাহাদের  রীতি মোতাবেক সেলসেলার দরবার খুবই বিরল।এক মাত্র বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরিফে এই দ্বন্ধ নেই। কেন থাকবে ? সেখানে তো বাড়িবাড়ি যাওয়ার আর তাবলীগের নামে,ওয়াজের নামে,চাঁন্দা উঠানোর প্রথানেই।রিজিকের মালিক আল্লাহ এই ইমানেও তাহাদের কমতি নেই। এখন পীরগিরির নামে যারা চাঁদা তোলে,দেশে বিদেশে তথা রমজান মাসে এতেকাফের নামে মক্কা শরিফ গিয়ে যাকাত ফেতরা বা চাঁদা তোলা তাহাদের মত হক্কানির ভাষায় তারাই হক্কানী পীর। প্রকৃত বাস্তবে ইহারা পীর নয়। বরং পেশাদার পীর। পীর মাওলানা ফজলুল করিম সাহেব সেই পেশার পীর । এই পেশাদারীত্ব তাহার ছিল না,তা বলার উপায় নেই।যেহেতু ইহা শতসিদ্ব বাস্তবতা।এই যদি হয় পীরের কর্মকাণ্ড তাহলে প্রকৃত খাটি পীরের সংজ্ঞা তারা যানে না,তা সম্পূর্ণ ভদ্রোচিত ভাষায়  বলা হল। তাহাদের হক্কানীরা উপারের লেফাফা দরুস্ত। আর এই লেফাফা দরুস্ত না হলে যেমন চাঁদা তোলা যাবেনা তেমনি অন্য লোকের চোখে ধাঁধা লাগানো যাবে না।


তারা রাসুলে পাক(সাঃ)এর বাহ্যিক সুন্নাতের লেবাসদিয়ে যা করে প্রক্রিত্র ওলীয়াল্লাহগনের তা অজানা নয়।যারা তাদের মত বাহ্যিক লেফাফা দুরুস্ত সুন্নাত পালন করেনা। তারা কেহ তাহাদের  মত চাঁদা তোলেনা। অপরের ছিদ্রান্বেষণ করেনা, ফেতনা করেনা, মিথ্যা বলেনা,গিবত বলেনা,বাৎসরিক ওয়াজের নামে মাদ্রাসা, এতিম খানা, ও লিল্লাহ বোর্ডিংএর নামে চাঁদা তোলেনা, মিলাদ বেদায়াত বলেনা,দুরুদের নামে দোয়া করে টাকা খায়না,টাকা ইনকামের নামে দোয়া,তাবিজ,যারফুক দিয়ে টাকা কামায় করে,রমজাননাআসলে ধোনিদের কাছে যাকাত তোলার জন্য রশিদ বই নিয়ে তোসামদি করেনা। এগুলো যারা করে,তারাকি আসোলেই ইমানদার ? খাজাবাবা ফরিদপুরি কেবলাজান এর একটিও করেনি।তিনি খাটি পীর নয় যে হক্কানীরা বলেছেন,তার বর্ণিত কাজ গুলো যারা সর্বদাকরে যাচ্ছে,তাহদেরকে যে হক্কানিরা খাটি পীর বলে চলছেন,সে হক্কানীরা কারা? লেফাফা দুরুস্ত পীরেরা, কওমি আলেমেরা, এবং শতকারা হারে চাঁদা তোলে যারা তারা কারা? ইহায় কি ইসলাম। ইসলামকে চাঁদা মার্কাইসলাম বানিয়েছেন যারা, তারা আবার হক্কানী!হায়রে হক্কানীরা –।তাই  বলেছি তারা কামেল পীরের সংজ্ঞা যানেনা। এমনকি বুঝেও বুঝেনা।কেন না তারা স্বার্থান্ধ। কামেল পীরের প্রথম কথা,সে প্রথমে সর্বাবস্থায় স্বীকার করবে রিজেকের মালিক আল্লাহ ।ইজ্জতের মালিক আল্লাহ। হেদায়াতের মালিক আল্লাহ।এই হেদায়াতের পথ প্রদর্শক রাসুল(সাঃ) আল্লাহ নয়। কিন্তু আল্লাহ থেকে রাসুল (সাঃ) যুদাও নয়। যার জন্য যে কোন পীর মাশায়েখ,আলেম ওলামা বিনা মতানৈক্যস্বীকার করতে বাধ্য যে, যে কোন দোয়া কবুল হবেনা,যতখন পর্যন্ত রাসুল(সাঃ) এর শানে দুরুদ পড়া না হবে। অতএব দোয়া কবুলিয়াতের শর্ত দুরুদ। আর এই দুরুদ হল রাসুলে পাক (সাঃ)এর গুনগান ও তাঁহার জন্য প্রার্থনা।অতএব রাসুলে পাক (সাঃ)ব্যতীত আল্লাহ পাওয়া যাবে না। এবং তাহার মহব্বতই প্রকৃত ঈমান।