Showing posts with label কুরবানি. Show all posts
Showing posts with label কুরবানি. Show all posts

Friday, 18 November 2016

কুরআন ও হাদইসের আলোকে আল্লাহ্‌র ওলীর পরিচয়???


ওলী’ শব্দটি আরবী বিলায়াত / ওয়ালায়াত শব্দ থেকে গৃহীত। শব্দটির অর্থ নৈকট্য, বন্ধুত্ব বা অভিভাবকত্ব। বিলায়াত অর্জনকারীকে ‘ওলী’ /‘ওয়ালী’ বলা হয়। অর্থাৎ নিকটবর্তী, বন্ধু, সাহায্যকারী বা অভিভাবক। ইসলামী পরিভাষায় ‘বিলায়াত’ ‘ওলী’ ও ‘মাওলা’ শব্দের বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার রয়েছে। উত্তরাধিকার আইনের পরিভাষায় ও রাজনৈতিক পরিভাষায় এ সকল শব্দ বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত। তবে বেলায়েত বা ওলী শব্দের সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ‘আল্লাহর বন্ধুত্ব’ ও ‘আল্লাহর বন্ধু’ অর্থে।
পাক কুরআনের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
পাক কুরআনে মহান আল্লাহ বলেনঃ
“জেনে রাখ! নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ওলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হবে না- যারা ঈমান এনেছে এবং যারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আত্মরক্ষা করে চলে বা তাকওয়া অবলম্বন করে।”(সূরা ইউনূসঃ ৬২-৬৩)
উল্লিখিত আয়াতপাকে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
১। যারা ঈমান এনেছে।
২। যারা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করে যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে।
এদু’টি গুণ যারা অর্জন করল তাদের কোন ভয় নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই আল্লাহর ওলী বা বন্ধু।
হাদীসের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন যে, ফরয ইবাদতগুলো পালনের সাথে সাথে অনবরত নফল পালনের মাধ্যমে বান্দা বেলায়েত বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার নৈকট্য অর্জন বা ওলী হওয়ার জন্য বান্দা যত কাজ করে তন্মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি যে কাজ আমি ফরয করেছি।(ফরয পালনই আমার নৈকট্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে প্রিয় কাজ)। এবং বান্দা যখন সর্বদা নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে আমার বেলায়েতের পথে বা আমার সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হতে থাকে তখন আমি তাকে ভালবাসি। আর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার শ্রবণযন্ত্রে পরিণত হই, যা দিয়ে সে শুনতে পায়, আমি তার দর্শনেন্দ্রিয় হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়, আমি তার হাত হয়ে যাই যদ্দ্বারা সে ধরে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যদ্দ্বারা সে হাঁটে। সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে আমি অবশই তাকে তা প্রদান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি।”(সহীহ বোখারী শরীফ, হাদীস নং ৬০৫৮ ইফা)
বর্ণিত হাদীসে বেশ কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
যারা আল্লাহর ওলী
১। তারা ফরয ইবাদত নিখুত ভাবে পালন করেন।
২। বেশী বেশী নফল বন্দেগী করেন।
৩। বন্দেগী করতে করতে তারা আল্লাহর ভালবাসা লাভ করেন।
৪। তখন তারা এমন এক অবস্থা লাভ করেন যে তাদের হাত, পা, চোখ, কান তথা সর্বাংগ আল্লাহ নিজের বলে ঘোষণা দেন। একেই তরিকতের পরিভাষায় ফানাফিল্লাহ বলে। অর্থাত আল্লাহর অস্তিত্বে বিলীন হওয়া বলে।
যেমনঃ পাক কালামে আল্লাহতায়ালা নবীজীকে(সাঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন,
ক) ‘যারা আপনার হাতে হাত রেখে বায়াত হয়, তারাতো আল্লাহরই হাতেই বায়াত হয়। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত।’(সূরা ৪৮ ফাতহঃ ১০)
খ) ‘আপনি যে ধুলির মুষ্টি নিক্ষেপ করেছিলেন তা আপনি করেননি, বরং তা করেছিলেন আল্লাহ স্ময়ং।’ (সূরা ৮ আনফালঃ ১৭)
কাজেই বুঝা গেল, আল্লাহর রাসূল(সাঃ) আল্লাহর অস্তিত্বে লীন ছিলেন বিধায় আল্লাহপাক তার হাতকে নিজের হাত বলে উল্লেখ করেছেন।
৫। তখন তারা আল্লাহর নিকট এমন এক ‌মযাদা বা সম্মান লাভ করেন যে, তাদের সাথে কেউ কোনরকম শত্রুতা করলে আল্লাহ তা বরদাস্ত বা সহ্য করেন না।
৬। তাদের প্রার্থনাসমূহ আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন।
৭। আল্লাহতায়ালা নিজে তাদের অশ্রয়স্থল হন।
উল্লিখিত গুণসমূহ দয়াল নবীজী(সাঃ) এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয়। তাই নবীজী(সাঃ)-ই আল্লাহর সবচেয়ে বড় বন্ধু বা ওলী। তারপর যারা নবী-করিম(সাঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরনের মাধ্যমে উল্লিখিত গুণসমূহ অর্জন করতে পারেন তারাও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন। আল্লাহর ওলী বা বন্ধু হিসাবে পরিগণিত হন।
বর্তমান জামানায় আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত সূফীসাধক হলেন বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী(কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব। দুনিয়াব্যপী যার কোটি কোটি মুরীদান তারই বাতেনী প্রতিপালনে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য বা সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
আল্লাহর ওলীর পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ওলীগণ হলেন জ্বলন্ত লৌহসদৃশ। এক খন্ড লৌহ যেইরুপ আগুনে পুড়িয়া আগুনের রং ধারন করে, সেইরুপ আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহতায়ালার নূরের তাজাল্লীতে জ্বলিয়া আল্লাহর গুণে গুনান্বিত হন।
------কাবুল

Sunday, 3 July 2016


¤.বিশ্বনবী (সাঃ) একদিন বাহির থেকে এসে তাঁর নাতি হাসান এবং হোসাইনকে আদর করছিলেন।হঠাৎ হোসাইন (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, বলেনতো নানা আপনি বড় নাকি আমি বড়? রাসূল(সাঃ) হেসে বললেন,"দুনিয়ার সকল মানুষের নেতা আমি।সেজন্য আমিতো অবশ্যই বড়"কিন্তুছোট্ট হোসাইন বললেন,না নানা,আমি আপনার চেয়ে বড়।
রাসূল(সাঃ) বললেন, "তুমি আমারচেয়ে বড়, এটার যুক্তি দেখাওতো?
"ছোট্ট হোসাইন বললেন,দেখি আপনার বাবার নামকি বলেন?
রাসূল (সাঃ) বললেন আবদুল্লাহ।
.
হোসাইন বললেন, শুধুই আবদুল্লাহ। আগেও কিছু নাই,পরেও কিছু নাই। আমার বাবার নামকি জানেন ? আমার বাবার নাম আসাদুল্লাহিল গালিব, আলী ইবনে আবি তালিব,সারা দুনিয়ার কাফিরদের যম।আপনি এমন এক আব্বা পেয়েছেন কি?তাহলে তো আমিই আপনার চেয়ে বড়।রাসুল (সাঃ) অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন হোসাইনের দিকে।.হোসাইন (রাঃ) বললেন,নানা এখানেই শেষ নয়। দেখি আপনার আম্মার নামকি বলেন।
রাসূল (সাঃ) বললেন,আমিনা।
.হোসাইন বললেন, শুধুই আমিনা।আর আমার আম্মার নামকি জানেন? আমার আম্মার নাম হলো,ফাতিমাতুজ জাহরা, জান্নাতের সর্দারীনী। এরকম একটি আম্মা কি আপনি পেয়েছেন? তাহলেতো এদিক দিয়েও,আমি আপনার চেয়ে বড়।রাসূল (সাঃ) আবারো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। হোসাইন আবার বললেন,নানা এখানেই শেষ নয় আরো আছে। দেখি বলুনতো আপনার নানির নামকি? রাসুল (সাঃ) তাঁর নানির বললেন।এবার হোসাইন বললেন, "আমার নানির নাম কি জানেন? আমার নানির নাম হলো,খাদিজাতুল কোবরা,জান্নাতে প্রথম মহিলা হিসেবে প্রবেশ করবেন।এরকম নানি কি আপনি পেয়েছেন? তাহলে তো এখান দিয়েও আমি আপনার বড়" .রাসূল (সাঃ) নিজের চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।.হোসাইন বললেন,নানা আরো আছে আরো আছে।বলুনতো আপনার নানার নাম কি??রাসূল (সাঃ) উনার নানার নামবললেন।এবার হোসাইন বললেন, আমার নানার নাম কি জানেন? আমার নানার নাম হলো রহমাতুল্লিল আ'লামিন,বিশ্বনবী মোস্তফা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এই রকম একজন নানা কি আপনি পেয়েছেন??? তাহলে আপনি নিজেই বলুন,কে বড়? আপনি বড়নাকি আমি বড়?.
রাসূল (সাঃ) হোসাইনকে শক্তকরে জড়িয়ে ধরে বললেন,হ্যাঁ হোসাইন।
আল্লাহ আজ তোমাকে আমার চেয়ে বড় বানিয়ে দিয়েছেন।.


Friday, 1 April 2016

কুরবানীর জবেহ হযরত ইসমাঈল (আঃ)এর স্মরণে



হজ্ব আদায়ের মৌসুমে হুজ্জাজে কেরাম হজ্জ আদায়ের রোকন হিসেবে এবং বিশ্বের সর্বত্র বসবাসকারী অন্যান্য মুসলমানগণ ঈদুল আজহার সময় পশু জবেহ করে।হযরত ইব্রাহিম (আঃ)এর সুন্নতের অনুস্মরণে তাই মান্য করে থাকে । এই সকল আমল মুলতঃ ঐ দৃশ্যের স্মরণকে উজ্জীবিত করে দেয়। যখন স্রষ্টার বাসনা বাস্তবায়নে হরযতইব্রাহিম (আঃ)স্বীয় কলিজার টুকরা হরযত ইসমাইল (আঃ)কে কুরবানি করার জন্য এই ময়দানে আনয়ন করে ছিলেন।এই আজীমে (মহান)কুরবানি (ত্যাগ)দরবারে এলাহীর মহানসমীপে এতই মনোমুগকর হয়েছিল যে,আজ অবদি প্রতি বছর হুজ্জাজে কিরাম এই কুরবানির স্মরনে পশু সমূহ কুরবানি করে থাকে।কুরবানি আদায় করার এই নির্দেশ আল্লাহ্‌র এতই পছন্দনীয় ও মনোনিত হয়ে ছিল যে,আল্লাহর তায়ালা এই বিধান হজ্জ আদাইকারীর রোকন পর্যন্ত সীমাব্দ না রেখে বরং গোটা মুসল্মানের সামথ অনুযায়ী আবশ্যকীয় বিধান করে দিলেন ।অথাৎ হে মুসলিম স্মপ্রদায়,তোমরা সামর্থবান লোকেরা! তোমরাও প্রতি বছর এমনিভাবে আল্লাহ্‌র বাস্তায় কুরবানি কর।
হরযত ইমাম হাসান বছরী (রহঃ)(হি; ২১-১১০)এর উপর নিম্নে বর্ণিত ব্যাখ্যা পেশ করেছেনঃ হরযত ইসমাইল (আঃ)এর কুরবানির মধ্যে বহু মোটাতাজা দুম্বা ওয়াদীয়ে ছবির (মক্কা পাহাড়ের নাম)থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছিল। (মহা পবিত্র কোরআনে)আল্লাহ্‌ পাক এরশাদ করেন-(আমি এক মহান কুরবানি তার বিনিময়ে দিয়ে তাকে মুক্ত করে নিয়েছ। বর্ণিত এ আয়াতে কারীমায় জবেহকে হরযত ইসমাইল (আঃ)এর কুরবানির সাথে নিধারন করে দিয়েছেন। (অর্থাৎ খাছ করে দিয়েছেন।)কিন্ত হরযত ইব্রাহিম (আঃ) এর এই নিয়মের উপর জবেহ করা কেয়ামত পর্যন্ত সুন্নত স্থায়ীত্ব করে দিয়েছেন ।  হরযত ইমাম হাসান বছরী (রহঃ)মুসমানদেরকে খেতাব করে বলেছেন তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, জবেহ মুর্দারের থেকে বুরাই (খারবিয়ান) দূর করে দেয়। সুতরাং হে আল্লাহ্‌র বান্দা! তোমরা কুরবানি করতে থাক।
নিঃস্নদেহে এই আমল হরযত ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ)এর আজীমতরীন (মহান ত্যাগের কুরবানি) কুরবানির ঘটনার স্মরণে মান্য করা হয়। (celebration)যাতে উম্মতে মোহআম্মদী (সাঃ)আল্লাহর দ্বীনের প্রতি নিবিষ্ট থাকে এবং আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল উৎসর্গ করতে কায়মনোবাক্যে সর্বদা নিমগ্ন থাকে।