Showing posts with label আমাদের ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label আমাদের ইসলাম. Show all posts

Saturday, 15 October 2016

পীর-মুরীদ কাকে বলে?


‘পীর’ শব্দটি ফরাসী শব্দ, যার বাংলা অর্থ হল ‘বৃদ্ধ বা মুরব্বী’। পরিভাষায় বলা হয়, যিনি শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফত তথা জাহেরী ও বাতেনী জ্ঞানে জ্ঞানী-তাকেই কামেল পীর বা ওলী বলে। পবিত্র কোরআনে এরকম লোককে ‘মুর্শেদ ও হাদী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে, সে ব্যক্তির নাম হল “মুরীদ”। এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।
আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল (সাঃ) থেকে চলে আসছে। রাসূল (সাঃ) সাহাবাদের আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূল (সাঃ) হলেন সবচে’ প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।

Thursday, 13 October 2016

বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফবিদপুরী(কুঃছেঃআঃ) ছাহেবর ১টি কারামতঃ



আশির দশকের কথা।ঢাকা ইউনিভাসিটির টিচার অধ্যাপক ডঃ সামাদ সাহেব সবেমাত্র ৪/৫ বার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফে এসেছেন।নিজ পরিচয় গোপন রেখেই দরবার শরীফে আসা-যাওয়া করছেন।প্রথম যেদিন এসেছিলেন হুজুরকেবলা সেদিন যে অমায়িক ব্যবহার করেছিলেন তা ভুলবার নয়।সেই থেকে এক আকষন পয়দা হয়েছে। মাঝে মাঝেই তাই দরবারে আসেন হুজুরকে দেখার জন্য। তখনও তিনি মুরীদ হন নি।
এক বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা থেকে দরবার শরীফে আসলেন। সেদিন অনেক মুরীদান-আশেকান দরবারে এসেছেন।অনেক ভীড়। আরও দেখলেন হুজরা শরীফের বারান্দায় অনেক তরমুজ। কোন এলাকা থেকে নজরানা এসেছে। অনেকের সাথে ডঃ সামাদ সাহেবও অপেক্ষায়। হুজুর বের হলে দেখা করবেন।মনের অস্থিরতাও দূর হবে।
কিছুক্ষণ পর হুজরা শরীফের দরজা খুলে গেল। কেবলাজান হুজুর বের হয়ে বারান্দায় অনেক তরমুজ দেখে কারা এনেছে জিজ্ঞেস করে তরমুজগুলো পাক শালায় নেওয়ার নিদেশ দিলেন। ডঃ সামাদ সাহেবও ১টি তরমুজ মাথায় তুলে রওয়ানা দিয়েছেন। এমন সময় কেবলাজান হুজুর সামাদ সাহেবকে বল্লেন, ‘বাবা, আপনি না।’ সামাদ সাহেব তরমুজ নীচে নামিয়ে হুজুর কেবলাজানের পাশে দাঁড়ালেন। হুজুর কেবলা কুরসিতে বসলেন। সাথে সাথে অনেক মুরীদান ও আগন্তক হুজুরকেবলাজানকে ঘিরে দাঁড়িয়ে গেল।
হঠাত হুজুরকেবলা সামাদ সাবের দিকে অংগুলী ইশারা করে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বল্লেন, “আপনারা কি উনাকে চিনেন? উনি মাটির নীচে কি সম্পদ লুকিয়ে আছে তা বলতে পারেন।” সামাদ সাহেবতো হতবাক। তিনি অবাক বিস্ময়ে অভিভূত। কারণ তিনিতো হুজুরকে বা দরবার শরীফের কাউকেই বলেননি যে তিনি একজন ভু-তত্ত্ববিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাহলে হুজুর কেবলা কি করে জানলেন?
বেশকিছুকাল পরে অনেক ধমীয় কিতাব অধ্যয়ন করে সামাদ সহেব বুঝতে পেরেছিলেন যে, অন্তরযামী আল্লাহতায়ালা তার বন্ধুদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে অপরাপর মানুষের ভিতর ও বাহিরের খবরাখবরও জানিয়ে দেন।
(তথ্যসূত্রঃ ডঃ সামাদ সাহেব স্ময়ং)

Saturday, 10 September 2016

হযরত আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ ???


মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) অসুস্থ আবু বকর (রাঃ)-কে দেখতে গেলেন। তখন তিনি সেখান থেকে বের হয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ)-র কাছে তাশরীফ নিলেন। উদ্দেশ্য, তাঁকে তাঁর পিতার অসুস্থতার সংবাদ দেওয়া। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘরে প্রবেশ করা মাত্র হযরত আবু বকর (রাঃ) দরজার বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, আব্বাজান দেখি তাশরীফ নিয়ে এসেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) খবই আশ্চর্য প্রকাশ করতে লাগলেন যে, আল্লাহ্ পাক এত দ্রুত তাকে আরোগ্য দান করেছেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) আরয করলেন, হুজুর! আপনি বের হওয়া মাত্রই হযরত জিব্রাইল (আঃ) আগমন করলেন এবং আমাকে একটি ঔষুধ শুঁকালেন, আর সাথে সাথে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম।
ইবনে আবুদ্দিনার ও ইবনে আসাকিরও এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
[তথ্যসূত্রঃ মাকামে সাহাবা ও কারামতে সাহাবা]

Thursday, 21 July 2016

মানত ভঙ্গ করার পরিণতি


ফরিদপুর জেলার এক কৃষক, যিনি বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর (কুঃ ছেঃ আঃ) একজন মুরীদ, দরবার শরীফে গিয়ে হযরত কেবলাজন হুজুরের কাছে অতি উদ্বেগের সাথে নালিশ জানালেন যে, তিনি তার জমিতে বেগুনের চাষ করেন। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে সব বেগুন খেয়ে ফেলে, নষ্ট করে ফেলে। লোকটির নালিশ শুনে পীর কেবলাজান খুব অবাক হয়ে মধুর কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন বাবা? বুলবুলি পাখি আপনার বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে কেন?”
আগত জাকের ভাই এবার বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বললেন, “ হুজুর, আমি জমিতে বেগুনের চাষ করে নিয়্যত করেছিলাম যে, প্রথম ফলনের সব বেগুন হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেব। কিন্তু প্রথম ফলন খুব ভাল হওয়াতে এবং বেগুনের দামও হঠাত খুব বেড়ে যাওয়াতে নিয়্যত পাল্টে ফেলে মনে মনে ঠিক করলাম যে, এবার না হয় দরবার শরীফে বেগুন নাইবা দিলাম। ভালো মূল্যে এবারের বেগুন গুলো বিক্রি করে পুজি বাড়িয়ে পরবর্তী বছরে বেগুন দরবার শরীফে দিয়ে দেব”। এ পর্যন্ত বলে চাষী একটু ঢোক গিললেন। পরের কথা গুলো বলার আগে হুজুর পাকই জিজ্ঞাসা করলেন, “তারপর কি হলো বলেন।” বেগুন চাষী জাকের ভাই জানলেন যে, দ্বিতীয় দফায় বেগুন গাছে ফুল ধরতে শুরু করলো, তখন কোথা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে তার ক্ষেতের বেগুন ফুল খাওয়া শুরু করল। ফলে সেবার ফলনও খুব কম হলো। তাই সেবারও নিয়্যত পাল্টে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এত কম ফলনের বেগুন দরবারে না দিয়ে পরর্বতী ফলনে (তৃতীয় দফায়) যে বেগুন হবে সেগুলো হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেবেন, আর এতে কোন অন্যথা করবেন না। কিন্তু পরবর্তী দফায় হতভাগ্য বেগুন চাষীর কপালের দূর্ভোগ আরো বেড়ে গেল। এবার আগের চেয়েও অনেক বেশী সংখ্যক বুলবুলি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বেগুনের শুধু ফুলই নয়, ফুল শুদ্ধ গাছের ডগা পর্যন্ত খেয়ে ফেলল।
ঠোকর দিয়ে সব গাছ একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। ফলে বেগুন চাষী এখন সর্বস্বান্ত হবার পথে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) স্মরণাপন্ন হয়েছেন। উদ্দেশ্য, খাজাবাবা যেন দয়া করে এ মহা মছিবত থেকে উদ্ধারে তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করেন।
সব শুনে হযরত কেবলাজান হুজুর আপন স্বভাবজাত মধুর সুরে বিস্ময়ের কন্ঠে বললেন, “বাবা, বুলবুলি পাখি যে আপনাকে শুদ্ধ খেয়ে ফেলেনি, এটাই আপনার পরম সৌভাগ্য। ওলী আল্লাহদের সাথে মুনাফেকী করা ঠিক নয়”।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ) ছাহেবের কতিপয় অবিস্মরনীয় কারামত)

Monday, 18 July 2016

মায়ের মমতা এবং হযরত সোলায়মান(আঃ)-এর বিচক্ষণতা



নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর যামানার ঘটনা। দুইজন মহিলা তাহাদের নিজ নিজ কোলে একটি করিয়া শিশু বহন করিয়া কোথাও যাইতেছিল। পথিমধ্যে এক মহিলা বাঘের আক্রমণের মুখে পতিত হইয়া স্বীয় শিশুটি হারাইল।নিজের শিশু হারাইয়া কি করিবে কিছু স্থির করিতে না পারিয়া তাহার সঙ্গী মহিলাটির কোল হইতে উহার শিশুটিকে ছিনিয়া নিয়া বলিল, এই শিশুটি আমার। তোমার শিশু বাঘে নিয়া গিয়াছে। উভয়ের মধ্যে খুব বাচসা ও কথা কাটাকাটি হইল। পরিশেষে উহারা উভয়ে নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে উপস্থিত হইয়া একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানাইল।
নবী হযরত দাউদ (আঃ) বিচার শেষে সেই কুচক্রী মহিলাটিকে শিশুটি দিয়া দিলেন। এই খবর শুনিয়া তাহার ছেলে হযরত সোলায়মান (আঃ) স্বীয় পিতার নিকট বলিলেন, “আব্বাজান! এই ব্যাপারে আমার নিকট একটি চমতকার সমাধান আছে, আপনি অনুমতি দিলে শুনাইতে পারি।” নবী হযরত দাঊদ (আঃ) অনুমতি দিলে হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, আমি শিশুটিকে এখনই দুই টুকরা করিয়া অর্ধেক করে উভয়ের মধ্যে বন্টন করিয়া দিব।” এই ফয়সালা শুনিয়া কুচক্রী মহিলাটি নিশ্চুপ রহিল। আর শিশুর আসল মাতা বলিয়া উঠিল, “ হুযুর! শিশুটি উহাকে দিয়া দিন। আল্লাহর কসম দিতেছি শিশুটিকে দুই টুকরা করিবেন না।” তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, শিশুর আসল মাতা হইল এই রমণীই। যাহার অন্তরে মাতৃ মমতা নিহিত রহিয়াছে, সেই উহাকে দ্বিখন্ডিত করনের ফয়সালায় বাধা হইয়া নিজ দাবী পরিত্যাগ করিয়াছে। অতঃপর শিশুটিকে তাহার আসল মাতার নিকট অর্পণ করিলেন।
তথ্যসূত্রঃ
* মিশকাত শরীফ- ৫০০ পৃঃ
* ফতহুল বারী দ্বাদশ খন্ড- ২৬৮ পৃঃ
* ইসলামের জীবন্ত কাহিনী- ১০০ পৃঃ

Friday, 6 May 2016

তরীকা কী "তরীকার উৎপত্তি """"পর্ব ২




এ কথাটাই প্রমান করে হযরত আলী (রাঃ)এর একটি উক্তির মাধ্যমে
'''হাজা কুরআনুন নাছয়াতুন আনা কুরআন নাতেকুন """।
অর্থাৎঃ "এই কুরআন নির্বাক, আমার কুরআন স্ববাক "।অর্থাৎ ওহী বিধান, আল্লাহর ওহীর বাস্তবায়ক মহান নবী রাসুলে পাক (সাঃ)।হযরত ওসমান (রাঃ)পুস্তক আকারে যখন কুরআন লিপিবদ্ধ করলেন তখন হযরত আলী (রাঃ)বর্ণিত উক্তি করলেন, 'হে ওসমান (রাঃ)!আপনার লিখিত কুরআন বিধান। যা স্বয়ং বাস্তবায়িত হয় না, বাস্তবায়িত করতে হয়। আর আমি আলী (রাঃ)বাস্তাবায়িত কুরআন। 'রাসুলে পাক (সাঃ)ছিলেন জীবন্ত কুরআন। সেই জীবন্ত কুরআনের বাস্তবতা আমি আলী (রাঃ) এর মধ্যে বিদ্যমান।
রাসুলে পাক (সাঃ)একমাত্র আলী (রাঃ) এর সম্পর্কে বলেছেন (আনা মাদীনাতুল এল্ম ওয়া আলীয়ু বাবুহা) অর্থাৎ "আমি হলাম এলেমের শহর আর আমার এই এলেমের দরওয়াজা হযরত আলী (রাঃ)"। "রাসুল (সাঃ) স্বয়ং কুরআন এ জন্য যে কুরআনের এমন কোন বিধান নেই,যা রাসুলে পাক (সাঃ) এর জীবনে বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই ধাঁচেই হযরত আলী (রাঃ)এর জীবন গঠিত। তার বাস্তব চিত্র রাসুলে পাক (সাঃ) এর ধরা না পরলে একমাত্র হযরত আলী (রাঃ) সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এ মুল্যবান মন্তব্য করতেন না। সে জন্যই বলতে হচ্ছে, কুরআনের বাস্তব নমুনা হযরত আলী (রাঃ)এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কুরআন বিধান। বাস্তবায়িত বিধান রাসুল (সাঃ)। অনুরুপ হযরত আলী (রাঃ)।যে পার্থক্য আছে তা সাধারণ্যের বোধগম্যেরর বাইরে। এই রাসুলে পাক সাঃ কে ছাহাবায় কেরাম স্বচহ্মে দেখতেন এবং হুবহু অনুকরন করতেন। যেই বিষয়টি বুঝতে কস্ট হতো, সেই বিষয় প্রশ্ন করে জেনে নিয়ে অনুরুপ অনুশীলন ও অনুকরণ করতেন। রাসুলে পাক সাঃ যে ভাবে চলতেন, খেতেন,হাটতেন,বসতেন,রোজা,নামাজ,
হজ্জ ইত্যাদি কায়েম ও আদায় করতেন অনুরুপ ছাহাবায়ে কেরাম অনুকরণ করতেন। অতএব রাসুলে পাক (সাঃ)এর সকল ক্রিয়া-কর্মই তরীকা। রাসুলে পাক (সাঃ) কোন কিছুই বলতেন না, যা তিনি করতেন না। কারন রাসুলে পাক (সাঃ)যা বলতেন, তা যদি বাস্তবে তিনি স্বয়ং না করতেন, তা হলে ছাহাবায়ে কেরাম কোন দিনই তা বাস্তবায়ন করতে সহ্মম হতেন না। সাধারন উম্মত তো নয়-ই। এই কারন ও বাস্তবায়নকে 'তরীকা 'বলা হয়। হযরত আলী (রাঃ) তাই সত্যই বলেছেন যে 'আমার কুরআন স্ববাক। 'অর্থাৎ আমি আলী (রাঃ)এর মধ্যে পবিত্র কুরআনের বিধান বাস্তবে বাস্তবায়িত।
তাই শরীয়ত বিধান,আইন, ল ক্যাটালক। এই আইন মোতাবেক কাজ করার নাম "তরীকা "।"চলবে

একাধিক পীর গ্রহণ করা জায়েজ কি না ?




প্রথমে দেখিতে হইবে মোরশেদ কামেল কি নাকেছ। যদি নাকেছ হয়, তবে বাঘ দেখিয়ে যেরুপ বকরী পলাইয়া যায়, সেরুপ তাহার নিকট হইতে ভাগিয়া যাওয়া  ফরজ ।আর যদি কামেল হন তবে তাহাকে ছাটিয়া অন্য পীর গ্রহণ করা নিষেধ। কিন্তু তিন কারনে অন্য পীর গ্রহণ করা জায়েজ আছে ।প্রথম যদি তাঁহার খেদমত করা সত্ত্বেও ফয়েজ না পাওয়া যায়। কেমন খেদমত যেরুপ মেহনত পরিশ্রম করিয়া হালাল হুজির দ্বারা পেট পূর্ণ করা যায় ।সামান্য খানার জন্য কত মেহনত ।আর আকেবাতের বেহেশতের বাদশাহী হাছেল করিতে  কি  রকম তপস্যার আবশ্যক বুঝিয়া দেখ ।দেখ হযরত মওলানা রুমী (রঃ) সাহেব কি রকম কঠোর খেদমত করিয়া তাঁহ্র পীর হযরত শামছ তীবরিজি (রঃ) সাহেবকে  বাধ্য করিয়াছিলেন ।দেখ হযরত ফরিদউদ্দিন আত্তার (রঃ) সাহেব যিনি বার বৎসর গাছের পাতা খাইয়া বার বৎসর কাঠের রুটি দেকাইয়া আপন নফছকে ভাড়াইয়া রাখিয়াছিলেন ।আর বার বৎসর দু পায়ে রশি লাগাইয়া কুয়াতে ঝুলিয়া আল্লাহ্‌ এবাদত করিয়াছিলেন ।এমন কি তাঁর চক্ষু পর্য্যন্ত কাককে খাওয়াইয়াছিলেন ।তিনিও কিরুপ কঠোর খেদমত করিয়া আপন পীর হযরত কুতুবুদ্দিন (রঃ) সাহেবকে বাধ্য করিয়াছিলেন বুঝিয়া দেখ ।পীরের সহিত তাঁহার এই সর্ত ছিল যে সাত বৎসর পর্য্যন্ত প্রত্যহ পীরকে না চাহিতে অজুর পানি যোগাইতে হইবে এবং তাহাজ্জতের নাআমাজের সময় পানি গরম করিয়া দিতে হবে ।সাত বৎসরের মধ্যে যদি ইহার ব্যতিক্রম হয় কিংবা পানির বর্তন ভাঙ্গিয়া যায় তবে আরও সাত বৎসর ঐরুপ কঠিন খেদমত করিতে হইবে।
যেহেতু আল্লার বীর হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহেব দেলের মুখে তাহা স্বীকার করিয়া পীরের খেদমতে নিযুক্ত হইলেন। সাত বৎসরের শেষ রাত্রিতে হঠাৎ জলপাত্র ভাঙ্গিয়া গেল। তিনি তখন সত্বর আর একটি বর্তন সংগ্রহ করিয়া অজুর পানি গরম করিয়া দিলেন। পরদিন সকালে পীর সাহেব তাঁহাকে ডাকিয়া ফরমাইলেন, বাবা তুমি আপন অঙ্গিকার ঠিকমত পালন করিতে পার নাই, সুতরাং তোমামে আরও সাত বৎসর খেদমত করিতে হইবে ।হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহ্রব দেমতে আরও সাত বৎসর ঐরুপ খেদমত করিতে লাগিলেন। শেষ দিনের রাত্রিতে প্রবল বেগে ঝড় বৃষ্টি হওয়াতে শহরের আগুন নিভিয়া গেল অতঃপর তিনি যৎপরনাস্তি ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। ঐ সময়ে হঠাৎ দরিয়ার পরপারে তাঁহার দৃষ্টি পড়াতে একটি আলো নজরে পড়িল। একে অন্ধকার রাতি তাহাতে জন্মানবের সাড়া নাই, সমস্ত স্থান নিরব ও নিস্তব্ধ এই অবস্থায় তিনি দরিয়ার কিনারায় পৌছিলেন। সেথায় কোন নৌকাদি ছিল না সুতরাং তিনি একটি মরা মানুশকে ধরিয়া পরপারে পৌছিলেন। তৎপর তিনি দেখিলেন যে এক বেশ্যার ঘড়ে আগুন জ্বলিতেছে। তাহাকে বলিলেন, মা তুমি দয়া করিয়া আমাকে একটু আগুন দাও। বেশ্যা তাঁহার রুপের ছটায় ও নয়নের শোভায় বিমোহিত হইয়া উন্মাদিনীর ন্যায় বলিয়া উঠিল, তুমি আমাকে মা বলিলে কেন? আমি তো কাহারও মা নই।  তোমাকে আমি আগুন দিব না। তা দিতে পারি যদি তোমার একটি চক্ষু খুলিয়া দাও। হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহেব তাহাকে এক চক্ষু খুলিয়া দিয়া আগুন লইয়া দরিয়ার কিনারায় আসিলেন। পূর্ব্বৎ মরা মানুষ ধরিয়া নদী পার হইলেন।পীর সাহেব না চাহিতেই তিনি গরম পানি নিয়া হাজির করিলেন। রওশন দেল-ওয়ালা পীর বাতেনী চক্ষে সবই দেখিয়াছিলেন। সে কথা প্রকাশ না করিয়া শিষ্যকে জিগাসা করিলেন, বাবা তুমি মাথায় এরুপভাবে দেস্তার বাঁধিয়াছ কেন? আর কেনই বা এরূপ ছটফট করিতেছ?” তিনি উত্তর করিলেন, হযরত!আমার চক্ষু পীড়া হইয়াছে।‘’অতঃপর পীরের দোয়ায় তাঁহার চক্ষু মিলিল ।পরদিন হযরত কুতুব উদ্দিন (রঃ) সাহেব তাঁহাকে নিকটে  বসাইয়া অতীব স্নেহে বাতেনী নেয়ামত বখশেষ করতঃ খেলাফতি দিয়া বিদায় করিলেন।    

Tuesday, 26 April 2016

শবে বরাত



 https://mishukifti.files.wordpress.com/2015/05/wpid-11336898_10153205913025999_1054535394990118786_o.jpg
শবে বরাতের নামাজঃ
শাবান মাসের পঞ্চদশ তারিখের রাত টিকে বলা হয় শবে বরাত। শবে বরাত অর্থ হল বরাতের রাত! এ রাতে জীব-জগতের আগামী বছরের ভাগ্য অর্থাৎ রুজু রোজগার এবং ভালোমন্দ ইত্যাদি নির্দিষ্ট হয় বলে এই রাত কে বলা হয় শবে বরাত। এহা একতি অত্যন্ত সার্থক নামকরন। 

শবে-বরাতে নামাজের নিয়মঃ
এরাতে এ নামাজের রাকারের সংখ্যার কোন সুনিদিষ্ট দলিল নেই!এই সম্প্রকে যে সব বর্ণনা রয়েছে,তাহার মর্মে কেবল এই টুকুই উপলদ্বি করা যায় যে, এই নামাজ যত বেশি আদায় করা যায়, ততই ছাওয়াব পাওয়া যায়। এই নামাজ আদায় করার নিয়ম এই যে, এশার নামাজের পর বেতের নামাজ বাকি রেখে এই নামাজ আদায় করতে হয়। দুই দুই রাকাত বা  চার রাকাতের নিয়ত করে এই নামাজ আদায় করতে  হয় । সুরা কেরাতের কোন সু নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামদের মতে, এ নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সুরা এখলাস,এবং দ্বিতীয় রাকাত ও একই সুরা  পাঠ করতে হয়। অবশ্য কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, সবে কদরের নেয় এই নামজেও প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে সুরা এখলাস পাঠ করলে ভাল হয়। বিভিন্ন গ্রন্থে এরূপ বর্ণীত হয়েছে যে, এই নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে এক বার সুরা কদর,এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে দশবার,পঁচিশবার সুরা এখলাস পাঠ করে প্রতি রাকাত আদায় করবে।অতঃপর একশত বার দরুদ শরিফ পাঠ করে মোনাজাত করবে। অন্য কিতাবে লিখা আছে, এ রাতে বার রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে।রাহার প্রথম চার রাকাতে প্রতিরাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে দশবার করে সুরা এখলাস পাঠ করবে।তার পরবর্তি চার রাকাতে প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার পর সুরা কদর,এবং পঁচিশবার সুরা এখলাস পাঠ করবে। তাহার পরবর্তী চার রাকাতে প্রতি রাকাতে সুরা ফাতেহার সাথে পঞ্চাশবার সুরা এখলাস পাঠ করবে।অতঃপর একশাত বার দরুদ শরিফ পাঠ করতঃ দুহাত  উঠিয়ে মোনাজাত করবে।

আরেক কিতাবে বর্ণীত হয়েছে, রাসুল(সাঃ) এই রাতে এশার নামাজ বাদে দুরাকাতের নিয়তে চৌদ্দ রাকাত নফল নামাজ আদায় কতেন এবং নামাজ শেষে নিম্নক্ত নিয়মে কোরআন পাঠ করতেন এবং মোনাজাত করতেন। নামাজে প্রতি রাকাতে তিনি সুরা ফাতেহার সাথে দশবার করে সুরা এখলাস পাঠ করতেন এবং নিম্নক্তভাবে নামজের পরে কোরানে পাকে সুরা সমুহ পাঠ করে মোনাজাত করতেন। যথাঃ

১৪ সুরা ফাতেহা,১৪ বার সুরা এখলাস,১৪বার সুরা ফালাক,১৪ বার সুরা নাস, ১৪ বার আয়াতুল কুরসি, এবং ১বার লাক্বাদ জায়াকুম হতে উক্ত আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন। উক্ত কিতানে উল্লেখিত হয়েছে যে,এরুপ ভাবে নামাজ আদায় করলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশ বছরের ইবাদাতের ছাওয়াব বকসিশ করেন।ইহা ছাড়া বিভিন্ন কিতাবে বর্ণীত হইয়েছে যে, দু দু রাকাতের নিয়মে এ নামাজ আদায় করলেই অধিক ছাওয়াব হাছিল হয়। আর এই দুদু রাকাতের প্রতি রাকাতেই  সুরা ফাতেহার সাথে তিন বার বা সাত বার সুরা এখলাস পাঠ করাই উত্তম। কেননা সুরার সংখ্যা বেশি না বাড়িয়ে নামাজের মধ্যে মনোযোগ ও একাগ্রতা সহকারে পাঠ করাই ভাল।পক্ষান্তরে, সুরার সংখ্যা হিসাবের দিকে খেয়েল বেশি রাখা নামাজির জন্য হিতকর নয়। এ রাতে নামাজ ব্যতীত কোরআন পাকে বিভিন্ন সুরা তেলাওয়াতের  ফজিলত সম্পর্কে বিভিন্ন কিতাবে বর্ণীত হয়েছে।

কোন এক কিতাবে উল্লেখ আছে,এরাতে ৭বার সুরা দোখান, ৩ বার সুরা ইয়াছিন পাঠ করলে আল্লাহতায়ালা হায়াত এবং রুজি রোজগার বৃদ্ধি করে দেন। এবং বেশুমার গুবাহ মার্জনা করেন। এহা ছাড়া কিতাবে আরো বর্ণীত আছে যে, এ তারিখ সন্ধ্যার সময় লা হাওলা ওলা-কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ পাঠ করলে বহু ছাওয়াবের অধিকারী হয়া যায়।
 হাদি শরিফে এরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত সূর্যাস্ত কালে ইহা চব্বিশবার পাঠ করলে আল্লাহয়ালা চব্বিশ বছরের ছগিরা গুনাহ মাফ করে দেন।          


Friday, 1 April 2016

কুরবানীর জবেহ হযরত ইসমাঈল (আঃ)এর স্মরণে



হজ্ব আদায়ের মৌসুমে হুজ্জাজে কেরাম হজ্জ আদায়ের রোকন হিসেবে এবং বিশ্বের সর্বত্র বসবাসকারী অন্যান্য মুসলমানগণ ঈদুল আজহার সময় পশু জবেহ করে।হযরত ইব্রাহিম (আঃ)এর সুন্নতের অনুস্মরণে তাই মান্য করে থাকে । এই সকল আমল মুলতঃ ঐ দৃশ্যের স্মরণকে উজ্জীবিত করে দেয়। যখন স্রষ্টার বাসনা বাস্তবায়নে হরযতইব্রাহিম (আঃ)স্বীয় কলিজার টুকরা হরযত ইসমাইল (আঃ)কে কুরবানি করার জন্য এই ময়দানে আনয়ন করে ছিলেন।এই আজীমে (মহান)কুরবানি (ত্যাগ)দরবারে এলাহীর মহানসমীপে এতই মনোমুগকর হয়েছিল যে,আজ অবদি প্রতি বছর হুজ্জাজে কিরাম এই কুরবানির স্মরনে পশু সমূহ কুরবানি করে থাকে।কুরবানি আদায় করার এই নির্দেশ আল্লাহ্‌র এতই পছন্দনীয় ও মনোনিত হয়ে ছিল যে,আল্লাহর তায়ালা এই বিধান হজ্জ আদাইকারীর রোকন পর্যন্ত সীমাব্দ না রেখে বরং গোটা মুসল্মানের সামথ অনুযায়ী আবশ্যকীয় বিধান করে দিলেন ।অথাৎ হে মুসলিম স্মপ্রদায়,তোমরা সামর্থবান লোকেরা! তোমরাও প্রতি বছর এমনিভাবে আল্লাহ্‌র বাস্তায় কুরবানি কর।
হরযত ইমাম হাসান বছরী (রহঃ)(হি; ২১-১১০)এর উপর নিম্নে বর্ণিত ব্যাখ্যা পেশ করেছেনঃ হরযত ইসমাইল (আঃ)এর কুরবানির মধ্যে বহু মোটাতাজা দুম্বা ওয়াদীয়ে ছবির (মক্কা পাহাড়ের নাম)থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছিল। (মহা পবিত্র কোরআনে)আল্লাহ্‌ পাক এরশাদ করেন-(আমি এক মহান কুরবানি তার বিনিময়ে দিয়ে তাকে মুক্ত করে নিয়েছ। বর্ণিত এ আয়াতে কারীমায় জবেহকে হরযত ইসমাইল (আঃ)এর কুরবানির সাথে নিধারন করে দিয়েছেন। (অর্থাৎ খাছ করে দিয়েছেন।)কিন্ত হরযত ইব্রাহিম (আঃ) এর এই নিয়মের উপর জবেহ করা কেয়ামত পর্যন্ত সুন্নত স্থায়ীত্ব করে দিয়েছেন ।  হরযত ইমাম হাসান বছরী (রহঃ)মুসমানদেরকে খেতাব করে বলেছেন তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, জবেহ মুর্দারের থেকে বুরাই (খারবিয়ান) দূর করে দেয়। সুতরাং হে আল্লাহ্‌র বান্দা! তোমরা কুরবানি করতে থাক।
নিঃস্নদেহে এই আমল হরযত ইব্রাহিম (আঃ) এবং ইসমাইল (আঃ)এর আজীমতরীন (মহান ত্যাগের কুরবানি) কুরবানির ঘটনার স্মরণে মান্য করা হয়। (celebration)যাতে উম্মতে মোহআম্মদী (সাঃ)আল্লাহর দ্বীনের প্রতি নিবিষ্ট থাকে এবং আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল উৎসর্গ করতে কায়মনোবাক্যে সর্বদা নিমগ্ন থাকে।