Showing posts with label amrabishbnnborummat. Show all posts
Showing posts with label amrabishbnnborummat. Show all posts

Friday, 18 November 2016

কুরআন ও হাদইসের আলোকে আল্লাহ্‌র ওলীর পরিচয়???


ওলী’ শব্দটি আরবী বিলায়াত / ওয়ালায়াত শব্দ থেকে গৃহীত। শব্দটির অর্থ নৈকট্য, বন্ধুত্ব বা অভিভাবকত্ব। বিলায়াত অর্জনকারীকে ‘ওলী’ /‘ওয়ালী’ বলা হয়। অর্থাৎ নিকটবর্তী, বন্ধু, সাহায্যকারী বা অভিভাবক। ইসলামী পরিভাষায় ‘বিলায়াত’ ‘ওলী’ ও ‘মাওলা’ শব্দের বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার রয়েছে। উত্তরাধিকার আইনের পরিভাষায় ও রাজনৈতিক পরিভাষায় এ সকল শব্দ বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত। তবে বেলায়েত বা ওলী শব্দের সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ‘আল্লাহর বন্ধুত্ব’ ও ‘আল্লাহর বন্ধু’ অর্থে।
পাক কুরআনের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
পাক কুরআনে মহান আল্লাহ বলেনঃ
“জেনে রাখ! নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ওলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হবে না- যারা ঈমান এনেছে এবং যারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আত্মরক্ষা করে চলে বা তাকওয়া অবলম্বন করে।”(সূরা ইউনূসঃ ৬২-৬৩)
উল্লিখিত আয়াতপাকে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
১। যারা ঈমান এনেছে।
২। যারা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করে যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে।
এদু’টি গুণ যারা অর্জন করল তাদের কোন ভয় নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই আল্লাহর ওলী বা বন্ধু।
হাদীসের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন যে, ফরয ইবাদতগুলো পালনের সাথে সাথে অনবরত নফল পালনের মাধ্যমে বান্দা বেলায়েত বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার নৈকট্য অর্জন বা ওলী হওয়ার জন্য বান্দা যত কাজ করে তন্মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি যে কাজ আমি ফরয করেছি।(ফরয পালনই আমার নৈকট্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে প্রিয় কাজ)। এবং বান্দা যখন সর্বদা নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে আমার বেলায়েতের পথে বা আমার সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হতে থাকে তখন আমি তাকে ভালবাসি। আর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার শ্রবণযন্ত্রে পরিণত হই, যা দিয়ে সে শুনতে পায়, আমি তার দর্শনেন্দ্রিয় হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়, আমি তার হাত হয়ে যাই যদ্দ্বারা সে ধরে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যদ্দ্বারা সে হাঁটে। সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে আমি অবশই তাকে তা প্রদান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি।”(সহীহ বোখারী শরীফ, হাদীস নং ৬০৫৮ ইফা)
বর্ণিত হাদীসে বেশ কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
যারা আল্লাহর ওলী
১। তারা ফরয ইবাদত নিখুত ভাবে পালন করেন।
২। বেশী বেশী নফল বন্দেগী করেন।
৩। বন্দেগী করতে করতে তারা আল্লাহর ভালবাসা লাভ করেন।
৪। তখন তারা এমন এক অবস্থা লাভ করেন যে তাদের হাত, পা, চোখ, কান তথা সর্বাংগ আল্লাহ নিজের বলে ঘোষণা দেন। একেই তরিকতের পরিভাষায় ফানাফিল্লাহ বলে। অর্থাত আল্লাহর অস্তিত্বে বিলীন হওয়া বলে।
যেমনঃ পাক কালামে আল্লাহতায়ালা নবীজীকে(সাঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন,
ক) ‘যারা আপনার হাতে হাত রেখে বায়াত হয়, তারাতো আল্লাহরই হাতেই বায়াত হয়। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত।’(সূরা ৪৮ ফাতহঃ ১০)
খ) ‘আপনি যে ধুলির মুষ্টি নিক্ষেপ করেছিলেন তা আপনি করেননি, বরং তা করেছিলেন আল্লাহ স্ময়ং।’ (সূরা ৮ আনফালঃ ১৭)
কাজেই বুঝা গেল, আল্লাহর রাসূল(সাঃ) আল্লাহর অস্তিত্বে লীন ছিলেন বিধায় আল্লাহপাক তার হাতকে নিজের হাত বলে উল্লেখ করেছেন।
৫। তখন তারা আল্লাহর নিকট এমন এক ‌মযাদা বা সম্মান লাভ করেন যে, তাদের সাথে কেউ কোনরকম শত্রুতা করলে আল্লাহ তা বরদাস্ত বা সহ্য করেন না।
৬। তাদের প্রার্থনাসমূহ আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন।
৭। আল্লাহতায়ালা নিজে তাদের অশ্রয়স্থল হন।
উল্লিখিত গুণসমূহ দয়াল নবীজী(সাঃ) এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয়। তাই নবীজী(সাঃ)-ই আল্লাহর সবচেয়ে বড় বন্ধু বা ওলী। তারপর যারা নবী-করিম(সাঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরনের মাধ্যমে উল্লিখিত গুণসমূহ অর্জন করতে পারেন তারাও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন। আল্লাহর ওলী বা বন্ধু হিসাবে পরিগণিত হন।
বর্তমান জামানায় আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত সূফীসাধক হলেন বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী(কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব। দুনিয়াব্যপী যার কোটি কোটি মুরীদান তারই বাতেনী প্রতিপালনে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য বা সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
আল্লাহর ওলীর পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ওলীগণ হলেন জ্বলন্ত লৌহসদৃশ। এক খন্ড লৌহ যেইরুপ আগুনে পুড়িয়া আগুনের রং ধারন করে, সেইরুপ আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহতায়ালার নূরের তাজাল্লীতে জ্বলিয়া আল্লাহর গুণে গুনান্বিত হন।
------কাবুল

Monday, 3 October 2016

৭২ জন শহিদে কারবালার নামঃ


আল্লাহ পাক শহীদে কারবালার আত্মত্যাগ এর বিনিময়ে ওনাদের উসীলায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করে দিন।- আমিন
(1) হযরত সৈয়েদেনা ইমাম হুসাঈন ইবনে আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম) রাদিআল্লাহু
(2) হযরত আব্বাস বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল কারবলা)
(3) হযরতসৈয়েদেনা আলী আকবর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু )
(4) হযরত সৈয়েদেনা আলী আসগর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু)
(5) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(6) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আলী( কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(7) হযরত সৈয়েদেনা উসমান বিনআলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(8) হযরতসৈয়েদেনা আবু বকরবিন আলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(9) হযরত সৈয়েদেনা আবু বকর বিন হাসান(রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(10) হযরত সৈয়েদেনা কাসিম বিন হাসান(রাদিআল্লাহুু)
(11) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাদিআল্লাহু )
(12) হযরত সৈয়েদেনা আওন বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(13) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(14) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিনআকীল(রাদিআল্
লাহু)
(15) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(16) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আকীল
(রাদিআল্লাহু)
(17) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল রহমান বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(18) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(19) হযরত ওনস বিন হাস` আসাদী (রাদিআল্লাহু)
(20) হযরত হাবিব বিন মাজাহির আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(21) হযরত মুসলিম বিন আওসাজা আসাদী(রাদিআল্লাহু )
(22) হযরত কাইস বিন মাসহার আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(23) হযরত আবু সামামা উমরু বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু
(24) হযরত বুরির হামদািন(রাদিআল্লাহু
(25) হযরত হানালাবিন আসাদ( রাদিআল্লাহু)
(26) হযরত আবিস শাকরি(রাদিআল্লাহু) (27) হযরত আব্দুল রহমান
রাহবি(রাদিআল্লাহু)
(28) হযরত সাইফ বিন হাস` (রাদিআল্লাহু)
(29) হযরত আমির বিন আব্দুল্লাহ হামদানি(রাদিআল্লাহু)
(30) হযরত জুনাদা বিন হাস`(রাদিআল্লাহু)
(31) হযরত মাজমা বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু)
(32) হযরত নাফে বিন হালাল (রাদিআল্লাহু)
(33) হযরত হাজ্জাজ বিন মাসরুক (রাদিআল্লাহু) মুয়াজ্জিন এ
কাফেলা
(34) হযরত ওমর বিন কারজা (রাদিআল্লাহু)
(35) হযরত আব্দুল রহমান বিন আবদে রব(রাদিআল্লাহু)
(36) হযরত জুনাদা বিন কাব(রাদিআল্লাহু)
(37) হযরত আমির বিন জানাদা(রাদিআল্লাহু)
(38) হযরত নাঈম বিন আজলান(রাদিআল্লাহু)
(39) হযরত স্বাদ বিন হাস`(রাদিআল্লাহু) (40) হযরত জুহায়ের বিন
কাইন(রাদিআল্লাহু)
(41) হযরত সালমান বিন মাজারাইব (রাদিআল্লাহু)
(42) হযরত সাঈদ বিন ওমর(রাদিআল্লাহু)
(43) হযরত আব্দুল্লাহ বিন বাসির (রাদিআল্লাহু)
(44) হযরত ইয়াজিদবিন জাঈদ কানদি(রাদিআল্লাহু)
(45) হযরত হারব বিন ওমর উল কাইস(রাদিআল্লাহু
(46) হযরত জাহির বিন আমির(রাদিআল্লাহু:)
(47) হযরত বাসির বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(48) হযরত আব্দুল্লাহ আরওয়াহ গাফফারি(রাদিআল্লাহু)
(49) হযরত জন (রাদিআল্লাহু)
(50) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(51) হযরত আব্দুল আলা বিন ইয়াজিদ (রাদিআল্লাহু)
(52) হযরত সেলিম বিন আমির(রাদিআল্লাহু) আজদী
(53) হযরত কাসিম বিন হাবীব(রাদিআল্লাহু)
(54) হযরত জায়েদ বিন সেলিম (রাদিআল্লাহু)
(55) হযরত নোমান বিন ওমর (রাদিআল্লাহু) আবদী
(56) হযরত ইয়াজিদ বিন সাবিত (রাদিআল্লাহু)
(57) হযরত আমির বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(58) হযরত সাইফ বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(59) হযরত জাবির বিন হাজ্জজি(রাদিআল্লাহু)
(60) হযরত মাসুদ বিন হাজ্জজি (রাদিআল্লাহু)
(61)হযরত আব্দুল রহমান বিন মাসুদ(রাদিআল্লাহু)
(62) হযরত বাকের বিন হাই
(63) হযরত আম্মার বিন হাসান তাই(রাদিআল্লাহু)
(64) হযরত জুরঘামা বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(65)হযরত কানানা বিনআতিক(রাদিআল্লাহু)
(66) হযরত আকাবা বিন স্লাট (রাদিআল্লাহু)
(67)হযরত হুর বিন ইয়াজিদ তামিমি (রাদিআল্লাহু)
(68) হযরত আকাবা বিন স্লট (রাদিআল্লাহু)
(69) হযরত হাবালা বিন আলী শিবানী (রাদিআল্লাহু)
(70) হযরত কানাবা বিন ওমর(রাদিআল্লাহুতায়াল আনহু)
(71) হযরত আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকতার (রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(72) হযরত গোলাম এ তুরকি (রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)

Saturday, 10 September 2016

হযরত আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ ???


মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) অসুস্থ আবু বকর (রাঃ)-কে দেখতে গেলেন। তখন তিনি সেখান থেকে বের হয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ)-র কাছে তাশরীফ নিলেন। উদ্দেশ্য, তাঁকে তাঁর পিতার অসুস্থতার সংবাদ দেওয়া। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘরে প্রবেশ করা মাত্র হযরত আবু বকর (রাঃ) দরজার বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, আব্বাজান দেখি তাশরীফ নিয়ে এসেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) খবই আশ্চর্য প্রকাশ করতে লাগলেন যে, আল্লাহ্ পাক এত দ্রুত তাকে আরোগ্য দান করেছেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) আরয করলেন, হুজুর! আপনি বের হওয়া মাত্রই হযরত জিব্রাইল (আঃ) আগমন করলেন এবং আমাকে একটি ঔষুধ শুঁকালেন, আর সাথে সাথে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম।
ইবনে আবুদ্দিনার ও ইবনে আসাকিরও এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
[তথ্যসূত্রঃ মাকামে সাহাবা ও কারামতে সাহাবা]

Thursday, 8 September 2016

স্বপ্ন তিন প্রকার


আমরা ঘুমালে অনেক কিছু স্বপ্নে দেখি। কখনওবা আনন্দদায়ক স্বপ্ন, কখনওবা কষ্টদায়ক স্বপ্ন, আবার কখনওবা ভীতিকর স্বপ্ন দেখি। কিন্তু স্বপ্নের অর্থ আমরা বুঝি না। কোন্ স্বপ্ন দেখলে কি করতে হবে তাও আমরা জানি না। এ সম্পকে আমাদের প্রিয় নবীজী(সাঃ) যে দিক-নিদেশনা দিয়েছেন তা নীচে তুলে ধরা হলো।

আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রঃ).…আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকার।
(১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ,
(২)মনের খেয়াল, আর
(৩) শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন।
কাজেই তোমাদের কেউ কোন পসন্দনীয় জিনিস স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অন্যের কাছে বলতে পারে। আর কেউ কোন অপসন্দীয় জিনিস স্বপ্নে দেখলে তা কারো কাছে বলবে না, আর সে যেন উঠে সালাত আদায় করে। (সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৬, ই,ফা)

স্বপ্ন তিন প্রকার
অন্য এক বণনায়ঃ
হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রঃ)…আওফ ইব্‌ন মালিক (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকারঃ
(এক) শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিজনক স্বপ্ন যা বনী আদমকে চিন্তাগ্রস্ত করে।
(দুই) মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা দেখলে চিন্তাযুক্ত হয়, স্বপ্নে তা দেখা।
(তিন) স্বপ্ন হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
রাবী বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হাঁ, আমি তা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শুনেছি।(সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৭, ই,ফা)
কেউ অপসন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে-
মুহাম্মদ ইব্‌ন রুম্হ আল-মিসরী (রঃ)….জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ অপসন্দনীয় স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, তিনবার আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চায়(‘‘আউযূ বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম” পড়ে)এবং সে যে পাশে কাৎ হয়ে শুয়ে ছিল তা যেন পরিবর্তন করে নেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৮, ই,ফা)

Thursday, 21 July 2016

মানত ভঙ্গ করার পরিণতি


ফরিদপুর জেলার এক কৃষক, যিনি বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর (কুঃ ছেঃ আঃ) একজন মুরীদ, দরবার শরীফে গিয়ে হযরত কেবলাজন হুজুরের কাছে অতি উদ্বেগের সাথে নালিশ জানালেন যে, তিনি তার জমিতে বেগুনের চাষ করেন। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে সব বেগুন খেয়ে ফেলে, নষ্ট করে ফেলে। লোকটির নালিশ শুনে পীর কেবলাজান খুব অবাক হয়ে মধুর কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন বাবা? বুলবুলি পাখি আপনার বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে কেন?”
আগত জাকের ভাই এবার বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বললেন, “ হুজুর, আমি জমিতে বেগুনের চাষ করে নিয়্যত করেছিলাম যে, প্রথম ফলনের সব বেগুন হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেব। কিন্তু প্রথম ফলন খুব ভাল হওয়াতে এবং বেগুনের দামও হঠাত খুব বেড়ে যাওয়াতে নিয়্যত পাল্টে ফেলে মনে মনে ঠিক করলাম যে, এবার না হয় দরবার শরীফে বেগুন নাইবা দিলাম। ভালো মূল্যে এবারের বেগুন গুলো বিক্রি করে পুজি বাড়িয়ে পরবর্তী বছরে বেগুন দরবার শরীফে দিয়ে দেব”। এ পর্যন্ত বলে চাষী একটু ঢোক গিললেন। পরের কথা গুলো বলার আগে হুজুর পাকই জিজ্ঞাসা করলেন, “তারপর কি হলো বলেন।” বেগুন চাষী জাকের ভাই জানলেন যে, দ্বিতীয় দফায় বেগুন গাছে ফুল ধরতে শুরু করলো, তখন কোথা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে তার ক্ষেতের বেগুন ফুল খাওয়া শুরু করল। ফলে সেবার ফলনও খুব কম হলো। তাই সেবারও নিয়্যত পাল্টে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এত কম ফলনের বেগুন দরবারে না দিয়ে পরর্বতী ফলনে (তৃতীয় দফায়) যে বেগুন হবে সেগুলো হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেবেন, আর এতে কোন অন্যথা করবেন না। কিন্তু পরবর্তী দফায় হতভাগ্য বেগুন চাষীর কপালের দূর্ভোগ আরো বেড়ে গেল। এবার আগের চেয়েও অনেক বেশী সংখ্যক বুলবুলি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বেগুনের শুধু ফুলই নয়, ফুল শুদ্ধ গাছের ডগা পর্যন্ত খেয়ে ফেলল।
ঠোকর দিয়ে সব গাছ একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। ফলে বেগুন চাষী এখন সর্বস্বান্ত হবার পথে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) স্মরণাপন্ন হয়েছেন। উদ্দেশ্য, খাজাবাবা যেন দয়া করে এ মহা মছিবত থেকে উদ্ধারে তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করেন।
সব শুনে হযরত কেবলাজান হুজুর আপন স্বভাবজাত মধুর সুরে বিস্ময়ের কন্ঠে বললেন, “বাবা, বুলবুলি পাখি যে আপনাকে শুদ্ধ খেয়ে ফেলেনি, এটাই আপনার পরম সৌভাগ্য। ওলী আল্লাহদের সাথে মুনাফেকী করা ঠিক নয়”।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ) ছাহেবের কতিপয় অবিস্মরনীয় কারামত)

Monday, 18 July 2016

মায়ের মমতা এবং হযরত সোলায়মান(আঃ)-এর বিচক্ষণতা



নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর যামানার ঘটনা। দুইজন মহিলা তাহাদের নিজ নিজ কোলে একটি করিয়া শিশু বহন করিয়া কোথাও যাইতেছিল। পথিমধ্যে এক মহিলা বাঘের আক্রমণের মুখে পতিত হইয়া স্বীয় শিশুটি হারাইল।নিজের শিশু হারাইয়া কি করিবে কিছু স্থির করিতে না পারিয়া তাহার সঙ্গী মহিলাটির কোল হইতে উহার শিশুটিকে ছিনিয়া নিয়া বলিল, এই শিশুটি আমার। তোমার শিশু বাঘে নিয়া গিয়াছে। উভয়ের মধ্যে খুব বাচসা ও কথা কাটাকাটি হইল। পরিশেষে উহারা উভয়ে নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে উপস্থিত হইয়া একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানাইল।
নবী হযরত দাউদ (আঃ) বিচার শেষে সেই কুচক্রী মহিলাটিকে শিশুটি দিয়া দিলেন। এই খবর শুনিয়া তাহার ছেলে হযরত সোলায়মান (আঃ) স্বীয় পিতার নিকট বলিলেন, “আব্বাজান! এই ব্যাপারে আমার নিকট একটি চমতকার সমাধান আছে, আপনি অনুমতি দিলে শুনাইতে পারি।” নবী হযরত দাঊদ (আঃ) অনুমতি দিলে হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, আমি শিশুটিকে এখনই দুই টুকরা করিয়া অর্ধেক করে উভয়ের মধ্যে বন্টন করিয়া দিব।” এই ফয়সালা শুনিয়া কুচক্রী মহিলাটি নিশ্চুপ রহিল। আর শিশুর আসল মাতা বলিয়া উঠিল, “ হুযুর! শিশুটি উহাকে দিয়া দিন। আল্লাহর কসম দিতেছি শিশুটিকে দুই টুকরা করিবেন না।” তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, শিশুর আসল মাতা হইল এই রমণীই। যাহার অন্তরে মাতৃ মমতা নিহিত রহিয়াছে, সেই উহাকে দ্বিখন্ডিত করনের ফয়সালায় বাধা হইয়া নিজ দাবী পরিত্যাগ করিয়াছে। অতঃপর শিশুটিকে তাহার আসল মাতার নিকট অর্পণ করিলেন।
তথ্যসূত্রঃ
* মিশকাত শরীফ- ৫০০ পৃঃ
* ফতহুল বারী দ্বাদশ খন্ড- ২৬৮ পৃঃ
* ইসলামের জীবন্ত কাহিনী- ১০০ পৃঃ

Tuesday, 7 June 2016

আল্লাহর অলীদের আনুগত্য করা ফরয



بسم الله الرحمن الرحيم

                            
আল্লাহ তায়ালার বাণী:        واصبو نفسك مع الذين يدعون ربهم بالفد وات والعشئ الخ ا                   (ওয়ার্ছ্বি নাফ্সাকা মাআল্লাযীনা ইয়াদ্উনা রাব্বাহুম বিল্গুদুওয়্যাতি ওয়াল শিয়্যে) অর্থাৎ, যারা সকাল সন্ধ্যায় আপন প্রভুকে ডাকে: আপন মনপ্রাণ তাঁদের সাথে ঠেকিয়ে রাখ অর্থাৎ যাঁরা আল্লাহকে স্মরণ করেন তাঁদের আজ্ঞা পালন কর এবং তাঁদের অনুগত হয়ে যাও কারণ ফকির অলীদের আনুগত্য করা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ রাসূলের আনুগত্য করারই নামান্তর কারণে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে: تخلقوا باخلاق الله (তাখাল্লাকু বিআখ্লাকিল্লাহ্) অর্থাৎ, আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও অলী-নবীদের চরিত্রও তাই সুতরাং যার মধ্যে আল্লাহর চরিত্রগুণ বিদ্যমান, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব আর এটা অলঙ্ঘনীয় ওয়াজিব এটা ফরজের স্থলে শর্তসাপেক্ষ ওয়াজিব নয় যে, শর্ত অপসারিত হলে ওয়াজিবও অপসারিত হয়ে যাবে উদাহরণস্বরূপ যাকাত প্রদান ওয়াজিব, কিন্তু যাকাত আদায় করার পর তা আর ওয়াজিব থাকে না অপরদিকে অলীদের আনুগত্য করা মৌলিক এবং অলঙ্ঘনীয় ওয়াজিব, ফরজের চেয়েও অধিক গুরুত্ববহ কারণ এরূপ স্থায়ী ওয়াজিব থেকেই ফরয অন্যান্য হুকুম-আহ্কাম বের হয় কারণ সার্বক্ষণিক ওয়াজিব কখনো অপসারিত হয় না যেমন আল্লাহ-রাসূল এবং অলীদের প্রতি বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব, আর কিয়ামত পর্যন্তই এটা ওয়াজিব এমনিভাবে প্রমাণিত মৌলিক ওয়াজিবসমূহ পালন করাও সার্বক্ষণিক ওয়াজিব
মোটকথা, ফকির-অলীদের আনুগত্য করা ওয়াজিব তাঁদের কোনো কাজ শরিয়ত বিরোধী মনে হলেও তা কেবল বাহ্যিক, কিন্তু অন্তর্নিহিত শরিয়ত বা আল্লাহ তায়ালার বিরোধী নয় আহলে জাহেরগণ বাহ্যিক শরিয়তের ওপর নির্ভরশীল অথচ দৃশ্যত যা বৈধ ভালো মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তা বিপরীতও হয় উদাহরণস্বরূপ, রক্ত এবং মণি প্রভৃতি বাহ্যতঃ অপবিত্র কিন্তু অন্তঃসারের বিচারে পবিত্র কারণ উহা দ্বারা পবিত্র মানুষ সৃষ্টি হয় অনুরূপ যে কোনো অবস্থাতেই স্ত্রী সঙ্গম বৈধ এবং কারও কাছে বললে গালির মতো শোনায় আল্লাহর অলীদের কাজকেও এভাবেই বিচার করতে হবে
হযরত খিজির (আঃ)-এর ঘটনা গভীরভাবে চিন্তা করুন সংক্ষেপে তা হল এই যে, হযরত খিজির (আঃ) সতর্কতামূলকভাবে হযরত মূসা (আঃ)-কে অঙ্গীকার করিয়ে নিয়েছিলেন যে, আমার কোনো কাজে আপনি আপত্তি করবেন না যদি করেন তাহলে আমার থেকে আলাদা হয়ে যাবেন হযরত মূসা (আঃ) বললেন, ইনশা আল্লাহ আমি অবশ্যই কথায় বহাল থাকব অতঃপর হযরত খিজির (আঃ) নদীর তীরে গেলেন সেখান থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়াই একটি নৌকা নিয়ে নদী পার হলেন এবং পরে স্বীয় লাঠির আঘাতে নৌকাটি ভেঙে নদীতে ডুবিয়ে দিলেন হযরত মূসা (আঃ) দেখলেন এটা সম্পূর্ণ শরিয়তবিরোধী কাজ কারণ মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো জিনিস নেওয়া অবৈধ তদুপরি উহা ভেঙে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে এবং অদৃশ্য করে ফেলা হয়েছে একই ঘটনায় তিন চারটি নিষিদ্ধ কর্ম বা হারাম কাজ হল, তাই হযরত মূসা (আঃ) আপত্তি উত্থাপন করলেন যে, আপনি এসব শরিয়তবিরোধী কাজ করেছেন তখন হযরত খিজির (আঃ) বললেন, আমার কাছ থেকে আপনি এখনি বিদায় হোন হযরত মূসা (আঃ) বিনীতভাবে অপরাধ ক্ষমা চাইলেন এবং কথা দিলেন, আর এমন হবে না অতঃপর সেখান থেকে এগিয়ে পথে একটি ছেলেকে স্বীয় লাঠির আঘাতে খিজির (আঃ) মেরে ফেললেন হযরত মূসা (আঃ) আবারও এতে আপত্তি করেন নূরানী বক্ষ হযরত খিজির (আঃ) রেগে গিয়ে বললেন, আপনি আমার থেকে বিদায় হোন হযরত মূসা (আঃ) আবারও ক্ষমাপ্রার্থী হলেন হযরত খিজির (আঃ) তাঁকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন পথে একটি ভাঙা দেয়াল পেয়ে দিনব্যাপী মেরামত করে দিলেন কাজ কেউ তাঁকে করতেও বলেনি বা এজন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিকও পাননি একান্ত স্বেচ্ছায় কাজটি করেছেন মূসা (আঃ) আবার প্রতিবাদ করলেন, নূরানী বক্ষ হযরত খিজির (আঃ) তাঁকে আলাদা হতে বললেন, এবার আপনার বিদায়ের পালা কারণ আমার কাজ আপনার অপছন্দ এবং আপনি গোপন জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ প্রকৃতপক্ষে জাগতিক নবীর ধৈর্যও নেই তখন হযরত মূসা (আঃ) আরজ করলেন, আপনি নৌকা ভাঙলেন, এর রহস্য কী? উত্তর দিলেন, জনৈক জালিম বাদশা আসছিল, সে নৌকার মাঝি-মাল্লা সকলকে ধরে নিয়ে যেত তাই এটাকে ডুবিয়ে দিয়েছি যেন বেচারার নৌকা নিজেই পেয়ে যায় এবং নৌকা দ্বারা গরিবরা তাদের জীবিকা অর্জন করতে পারে নাবালকটাকে হত্যা করার রহস্য হল ছেলেটা ডাকাত হত, তার পিতা-মাতাকে কষ্ট দিত এবং আল্লাহর অবাধ্য হত এজন্য আমি তাকে হত্যা করেছি অতঃপর তার আর একটি ভগ্নি জন্মগ্রহণ করবে এবং তার আওলাদদের মধ্যে সত্তর জন নবী জন্ম নিবেন আর দেয়াল মেরামতের মাধ্যমে আমি জনৈক অনাথকে সাহায্য করেছি দেয়ালের নিচে তার পিতার অনেক সম্পদ লুকায়িত আছে দেয়ালটি পড়ে গেলে সে সম্পদ অন্যে নিয়ে যেত আক্ষেপ সব বিষয়ে আপনি মোটেই অবহিত নন এবং আপনার কোনো অদৃশ্য জ্ঞানও নেই আপনি যদি আমার কাজে আপত্তি উত্থাপন না করতেন, তাহলে অনুরূপ হাজারও বিষয়ে আপনাকে শিক্ষা দিতাম এখানে চিন্তার বিষয় এই যে, হযরত মূসা (আঃ) নবী হয়েও নিজের ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন এবং আপত্তি উত্থাপন করেছেন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা গোপন জ্ঞান শিক্ষার জন্য নূরানী বক্ষ হযরত খিজির (আঃ)-এর নিকট তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন এতদসত্ত্বেও তিনি বাহ্যিক শরিয়তের অনুসরণ করেন এবং নূরানী বক্ষ হযরত খিজির (আঃ)-এর কার্যাদি খারাপ দোষণীয় মনে করেন তিনি এটা চিন্তাই করেননি যে, যেহেতু আল্লাহ আমাকে তাঁর কাছে পাঠিয়েছেন, সেহেতু তাঁর তাক্লীদ বা অনুসরণ করা আমার কর্তব্য এবং তাঁর সাথে বিরোধ করা অনুচিত এজন্যই ফকির এবং অলীদের কোনো কাজ শরিয়তের ঘোর বিরোধী মনে হলেও, তাঁদের আনুগত্য করতে হবে কারণ অলীদের হাত আল্লাহর হাতে স্থাপিত আল্লাহ যা করান তা- তাঁরা করেন, যদিও দৃশ্যত তা আপত্তিকর মনে হয় যেমন কোনো অলী দেখলেন যে কোনো ব্যক্তির ওপর অদৃশ্য বিপদ আসছে, তখন তিনি তার কিছু মালামাল তার অনুমতি ছাড়াই সরিয়ে নিলেন এবং যতদিন না তার বিপদ কেটে যায়, ততদিন তা নিজের কাছে রেখে দিলেন এটা চুরি হবে না, বরং এটা হবে মালের মালিকের প্রতি দয়া প্রদর্শন কারণ সে সময় সে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছিল তার মালের কিছু অংশ অলী নেওয়ার বদৌলতে আল্লাহ তা নিরাপদে রেখেছেন এভাবে আল্লাহর অনেক অলী সময় সময় দৃশ্যত শরিয়তবিরোধী বহু অপ্রয়োজনীয় কাজও করে থাকেন কখনো লোকদের গালি দেন গালিরও অর্থ আছে সময় বিশেষে কাউকে লক্ষ করে গালি দিলেও আসলে বিপদ-আপদকেই গালি দেওয়া হয় উদ্দেশ, যাতে তার বিপদ-আপদ দূর হয়ে যায় লক্ষণীয়, যে ভালো করতে চাচ্ছে, আমরা তাঁর দুর্নাম করছি হযরত খিজির (আঃ) নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছেন, নৌকার মালিক দেখলে অবশ্যই তাঁকে চোর মনে করত অনুরূপভাবে কোনো কোনো ফকির পতিতার ঘরে যাতায়াত করেন. কখনো কখনো মন্দিরেও যান এতেও রহস্য আছে এতে চতুর্দিকে প্রসারিত মূর্তির প্রভাব দমন হচ্ছে, অথবা অন্য রহস্যও আছে আল্লাহর কোনো কোনো অলী নেংটি পরিধান করেন, এরও তাৎপর্য আছে বিশেষত এর দ্বারা তাঁরা নিজের নফ্সকে লাঞ্ছিত করেন এবং লাঞ্ছনার বিনিময়ে অজস্র রহমত নেয়ামত লাভ হয় স্মরণীয় যে, নেংটি পরিধান করা তথা গুপ্তাঙ্গ ঢাকা মালিকী মাজহাবে ফরজ অথচ অলীদের মাজহাবে তো ফরজই নেই কারণ তাওহীদপন্থী যখন তাওহীদের সাগরে নিমজ্জিত হতে থাকেন, তখন বাহ্যিক শরিয়তের কোনো তোয়াক্কা থাকে না আওয়ারিফ এবং ফচুছ্ প্রভৃতি তাসাউফের কিতাব দ্রষ্টব্য তবে আল্লাহর অলীগণ সব সময়ই মঙ্গল করে থাকেন তাঁরা যেখানে থাকেন সেখানে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয় হাদীস শরীফে আছে যে, আল্লাহর অলীগণ পানাহার কথা বলার সময় রহমত নাযিল হয় অতএব তাঁদের সব কথাই রহমত মিশ্রিত তাঁরা যদি কাউকে মারেনও তাও রহমত
অলী দু প্রকার: মুতাসাওফিয়া এবং মালামাতিয়া মুতাসাওফিয়াগণ কদাচিৎ ছাড়া কখনো বাহ্যিক শরিয়তের খেলাফ কিছু করেন না কিন্তু মালামাতিয়াগণ দৃশ্যত শরিয়তের খেলাফ করেন যেমন: নেংটি পরা অথবা উলঙ্গ থাকা ইত্যাদি তবে অধিকাংশ গাউস-কুতুব-আবদাল এবং উত্তম ব্যক্তিত্ব এদের থেকেই আবির্ভূত হন এবং এরাই পৃথিবীর হিতাকাক্সক্ষী
আলমের বিবরণ                                                              
আলম একটি সুমহান স্থান যাকে আলম--মুতলাক বলা হয় কোনো কোনো হিসেবে আলম দুভাগে বিভক্ত যেমন: আলম--আমর এবং আলম--খাল্ক আবার কোনো হিসেবে আলম চার ভাগে বিভক্ত যেমন: নাসুত মালাকুত যাবারুত লাহুত অন্য হিসেবে আলম সাতটি: হাহুত ইয়াহুত বাহুত আর কোনো হিসেবে নয়টি: আহুত এবং হামিদা আবার কোনো হিসেবে আঠারোটি মোটকথা আলম--মুতলাক-এর উৎসের প্রেক্ষিতে নামের পার্থক্য হয়েছে অর্থাৎ আলম--জাত অর্থাৎ আলম--লাহুতের পরবর্তী স্তরসমূহ নিম্নক্রমে পরস্পর শাখা বিশেষ এবং উপরের আলম তথা হাকীকত--জাত ঊর্ধ্বানুক্রমে একে অন্যের উৎস কিন্তু জাতের শেষ নেই এর পরিপূর্ণ আলোচনা সম্ভব নয় তাছাড়া জাতে যা কিছু রয়েছে, তা জানা এবং দেখা কারও পক্ষে সম্ভব নয় তবে যে নিজেকে জানতে পারে এবং দেখতে পায় তার পক্ষে সব কিছু জানা দেখা সম্ভব কারণ সমগ্র বিশ্ব স্বীয় অজুদের অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ অজুদ সমগ্র জগৎই অজুদ আর জগতের মধ্যে অজুদই জগৎ উদাহরণস্বরূপ প্রত্যেকটি স্ফুলিঙ্গে আগুন অন্বেষণ করে, সে তো আগুনের সাথে স্ফুলিঙ্গ এবং স্ফুলিঙ্গের সাথে আগুনও পেয়ে থাকে অনুরূপভাবে অজুদ এবং জগৎ একটাই অজুদের বিচারে জগৎও অজুদ আর অজুদকে জগতের প্রেক্ষিতে বিচার করলে অজুদও জগৎ এটা যে জানে না, এমন লোকদের নিকট এসব কথা বলা না বলা সমান
জগতের রূপ                                                                  
জগৎ একটি হেকমতময় বীজ এর মধ্যে ফল, ফুল, বৃক্ষ, মগজ তৈল সবই বর্তমান এমনকি তা আঠারো হাজার সৃষ্টির জন্ম-পরিসর যেমন: একটা খোসার মধ্যে শত শত দানা আছে এবং প্রত্যেকটি দানার জন্য পৃথক পৃথক স্থান নির্ধারিত রয়েছে, আবার সে সবগুলো দানা রয়েছে একটি মাত্র সাধারণ স্থানে অতএব এরা সব মিলে এক আবার একই সব মৌলিক এবং অমৌলিক, প্রেক্ষিতে একের বহু হওয়া এবং বহু-এর এক হওয়া, একে অন্যের পরিপূরক এবং দৃশ্য জগতের মূল হল, আলম--জাত তথা লাহুত আবার আলম--লাহুত এর মূলকে বলা হয় আলম--হাহুত অনুরূপভাবে আলম--সিফাত অর্থাৎ, আলম--যাবারুত এবং মালাকুত প্রভৃতিও মূলের শাখা-প্রশাখা মাত্র অতএব, যা কিছু জগৎ মাঝে বিদ্যমান, তা সবই মানুষের মধ্যে বর্তমান জন্যই হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, যে নিজেকে চিনেছে, সে তার প্রভুকেও চিনেছে কবর আযাব কথাটিরও একই অর্থ অর্থাৎ কবরের বড় বড় সাপ বিচ্ছু প্রভৃতি সবই স্বীয় দেহের প্রজাতি অর্থাৎ, স্বীয় দেহে বর্তমান বিষ থেকে বিভিন্ন ধরনের দংশনকারী জীব জন্মিবে এবং তাকে দংশন করবে মানুষের পেটে যেভাবে কৃমি জন্মগ্রহণ করে, সেভাবে মৃত দেহে নিজে নিজেই অনেক ধরনের পোকার জন্ম হয় শাস্তি শান্তি উভয়ই স্বীয় অজুদ অর্থাৎ সত্তা তথা রুহানী সত্তা জাত সময় তাদের মধ্যে রুহ্ প্রবিষ্ট করানো হলে ঐসব পোকার কারণে তাদের কষ্ট হবে পোকা, সাপ, বিচ্ছু যা কিছুই হবে তা সৃষ্টির বাইরে নয় ভালো হোক আর মন্দ হোক বীজ এটাই যেমন, মানুষ যখন শয়তানি করে, তখন তাকে শয়তান বলা হয় অর্থাৎ মানুষের মধ্যে শয়তানি এবং কুকুরের স্বভাব দেখা গেলেই তাকে শয়তান বা কুকুর ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয় কারণে হাশরের দিন অনেক লোক বানর শূকর প্রভৃতির আকৃতিতে কবর থেকে উত্থিত হবে এর অর্থ হল, বহু আকৃতি-প্রকৃতির বীজ মানুষের স্ব-স্ব অজুদে তথা সত্তায় বর্তমান উদাহরণস্বরূপ মাটি থেকে বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ, বৃক্ষরাজি এবং জঙ্গল প্রভৃতি জন্মলাভ করে মাটির সাথে সকল জিনিস প্রজাতির বীজ হিক্মত তথা বিজ্ঞানসম্মতভাবে একসঙ্গে মিশিয়ে উহাকে আটার রুটির মতো তৈরি করা হয়েছে কারণে ভূমি সৃষ্টি করে কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত উহাতে বৃষ্টিপাত করা হয় অতঃপর কয়েক হাজার বছর ধরে উহাকে শুকানো হয় এভাবে বার বার এরকম করা হয়, ফলে সব জিনিসের বীজ পরিপক্ব হয়ে মাটির সাথে মিশে যায় এবং উহাতে শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে পানি থেকে পর্যায়ক্রমে ভূমির উৎপত্তি হয়েছে: কথাটির অর্থ ভিন্ন কারণেই ভূ-পৃষ্ঠে নানা রকম বৃক্ষাদি, পাথর, রকমারি উদ্ভিদ এবং নানা শ্রেণীর জীবজন্তু জন্মগ্রহণ করেছে প্রত্যেকদিন আল্লাহ তায়ালা এগুলোকে সৃষ্টি করছেন না তবে আল্লাহ তায়ালা কোনো প্রজাতি থেকেই দূরে নন বা বিচ্ছিন্ন নন কেউ কেউ লিখেছেন যে, জ্ঞানের প্রেক্ষিতে আল্লাহ সকল বস্তুর সন্নিকটে এর অর্থ হল, তিনি সত্তাগত জ্ঞানসূত্রে এসবের কাছাকাছি কারণ সমস্ত বস্তুতেই অবশ্যম্ভাবীরূপে পরমসত্তা ব্যাপ্ত এবং সত্তার সাথে জ্ঞানও রয়েছে বিষয়ে অজ্ঞ ব্যক্তির কিছু লেখা না লেখা সমান
সুতরাং ভূমিকে হেয় জ্ঞান করা কারও উচিত নয় কারণ ভূমির উপাদান অনেক উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন এবং মৌলিক নূর সিজ্দার নূর দ্বারা ভূমি সৃষ্টি করা হয়েছে তাই গোটা ভূ-বিশ্বকেই আল্লাহ মসজিদ আখ্যা দিয়েছেন এখানে স্বর্ণ-রৌপ্য-নবী-অলী এবং বিভিন্ন রকমের মূল্যবান প্রস্তরাদি জন্মে এসব বিষয়ে পরিপূর্ণতার ক্ষেত্রে মাটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী শুধু দু একটি কারণেই নয়: সব দিক থেকেই মাটিকে আল্লাহ পছন্দ করেছেন পবিত্র জগতের সাথে মাটির কী সম্পর্ক: এটা যারা বলেন, তারা যদি এখানে মাটি দ্বারা ধুলোবালি এবং আবর্জনা বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে ঠিক আছে অন্য কিছু বুঝিয়ে থাকলে তা ঠিক নয় কারণ আল্লাহ তায়ালা মাটি থেকেই তাঁর বন্ধুদের সৃষ্টি করেছেন এবং এতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র নূর যুক্ত রয়েছে মাটি সকল মাটির মানুষের কাছে মাতৃতুল্য পবিত্র সুতরাং মাটিকে ভালোবাস এবং নিজেকে মাটির মতো করে গড়ে তোলো তাহলে আল্লাহ তোমাদের পছন্দ করবেন