Showing posts with label islam. Show all posts
Showing posts with label islam. Show all posts

Friday, 18 November 2016

কুরআন ও হাদইসের আলোকে আল্লাহ্‌র ওলীর পরিচয়???


ওলী’ শব্দটি আরবী বিলায়াত / ওয়ালায়াত শব্দ থেকে গৃহীত। শব্দটির অর্থ নৈকট্য, বন্ধুত্ব বা অভিভাবকত্ব। বিলায়াত অর্জনকারীকে ‘ওলী’ /‘ওয়ালী’ বলা হয়। অর্থাৎ নিকটবর্তী, বন্ধু, সাহায্যকারী বা অভিভাবক। ইসলামী পরিভাষায় ‘বিলায়াত’ ‘ওলী’ ও ‘মাওলা’ শব্দের বিভিন্ন প্রকারের ব্যবহার রয়েছে। উত্তরাধিকার আইনের পরিভাষায় ও রাজনৈতিক পরিভাষায় এ সকল শব্দ বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত। তবে বেলায়েত বা ওলী শব্দের সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ‘আল্লাহর বন্ধুত্ব’ ও ‘আল্লাহর বন্ধু’ অর্থে।
পাক কুরআনের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
পাক কুরআনে মহান আল্লাহ বলেনঃ
“জেনে রাখ! নিশ্চয় আল্লাহ্‌র ওলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হবে না- যারা ঈমান এনেছে এবং যারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আত্মরক্ষা করে চলে বা তাকওয়া অবলম্বন করে।”(সূরা ইউনূসঃ ৬২-৬৩)
উল্লিখিত আয়াতপাকে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
১। যারা ঈমান এনেছে।
২। যারা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করে যাবতীয় পাপ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে।
এদু’টি গুণ যারা অর্জন করল তাদের কোন ভয় নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই আল্লাহর ওলী বা বন্ধু।
হাদীসের আলোকে আল্লাহর ওলীঃ
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন যে, ফরয ইবাদতগুলো পালনের সাথে সাথে অনবরত নফল পালনের মাধ্যমে বান্দা বেলায়েত বা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা করে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার নৈকট্য অর্জন বা ওলী হওয়ার জন্য বান্দা যত কাজ করে তন্মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি যে কাজ আমি ফরয করেছি।(ফরয পালনই আমার নৈকট্য অর্জনের জন্য সবচেয়ে প্রিয় কাজ)। এবং বান্দা যখন সর্বদা নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে আমার বেলায়েতের পথে বা আমার সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হতে থাকে তখন আমি তাকে ভালবাসি। আর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার শ্রবণযন্ত্রে পরিণত হই, যা দিয়ে সে শুনতে পায়, আমি তার দর্শনেন্দ্রিয় হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়, আমি তার হাত হয়ে যাই যদ্দ্বারা সে ধরে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যদ্দ্বারা সে হাঁটে। সে যদি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করে তাহলে আমি অবশই তাকে তা প্রদান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি।”(সহীহ বোখারী শরীফ, হাদীস নং ৬০৫৮ ইফা)
বর্ণিত হাদীসে বেশ কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যথাঃ
যারা আল্লাহর ওলী
১। তারা ফরয ইবাদত নিখুত ভাবে পালন করেন।
২। বেশী বেশী নফল বন্দেগী করেন।
৩। বন্দেগী করতে করতে তারা আল্লাহর ভালবাসা লাভ করেন।
৪। তখন তারা এমন এক অবস্থা লাভ করেন যে তাদের হাত, পা, চোখ, কান তথা সর্বাংগ আল্লাহ নিজের বলে ঘোষণা দেন। একেই তরিকতের পরিভাষায় ফানাফিল্লাহ বলে। অর্থাত আল্লাহর অস্তিত্বে বিলীন হওয়া বলে।
যেমনঃ পাক কালামে আল্লাহতায়ালা নবীজীকে(সাঃ) উদ্দেশ্য করে বলেন,
ক) ‘যারা আপনার হাতে হাত রেখে বায়াত হয়, তারাতো আল্লাহরই হাতেই বায়াত হয়। তাদের হাতের উপর রয়েছে আল্লাহর হাত।’(সূরা ৪৮ ফাতহঃ ১০)
খ) ‘আপনি যে ধুলির মুষ্টি নিক্ষেপ করেছিলেন তা আপনি করেননি, বরং তা করেছিলেন আল্লাহ স্ময়ং।’ (সূরা ৮ আনফালঃ ১৭)
কাজেই বুঝা গেল, আল্লাহর রাসূল(সাঃ) আল্লাহর অস্তিত্বে লীন ছিলেন বিধায় আল্লাহপাক তার হাতকে নিজের হাত বলে উল্লেখ করেছেন।
৫। তখন তারা আল্লাহর নিকট এমন এক ‌মযাদা বা সম্মান লাভ করেন যে, তাদের সাথে কেউ কোনরকম শত্রুতা করলে আল্লাহ তা বরদাস্ত বা সহ্য করেন না।
৬। তাদের প্রার্থনাসমূহ আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন।
৭। আল্লাহতায়ালা নিজে তাদের অশ্রয়স্থল হন।
উল্লিখিত গুণসমূহ দয়াল নবীজী(সাঃ) এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হয়। তাই নবীজী(সাঃ)-ই আল্লাহর সবচেয়ে বড় বন্ধু বা ওলী। তারপর যারা নবী-করিম(সাঃ) এর পরিপূর্ণ অনুসরনের মাধ্যমে উল্লিখিত গুণসমূহ অর্জন করতে পারেন তারাও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন। আল্লাহর ওলী বা বন্ধু হিসাবে পরিগণিত হন।
বর্তমান জামানায় আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত সূফীসাধক হলেন বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী(কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব। দুনিয়াব্যপী যার কোটি কোটি মুরীদান তারই বাতেনী প্রতিপালনে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য বা সান্নিধ্যের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
আল্লাহর ওলীর পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ওলীগণ হলেন জ্বলন্ত লৌহসদৃশ। এক খন্ড লৌহ যেইরুপ আগুনে পুড়িয়া আগুনের রং ধারন করে, সেইরুপ আল্লাহর ওলীগণ আল্লাহতায়ালার নূরের তাজাল্লীতে জ্বলিয়া আল্লাহর গুণে গুনান্বিত হন।
------কাবুল

Thursday, 13 October 2016

বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফবিদপুরী(কুঃছেঃআঃ) ছাহেবর ১টি কারামতঃ



আশির দশকের কথা।ঢাকা ইউনিভাসিটির টিচার অধ্যাপক ডঃ সামাদ সাহেব সবেমাত্র ৪/৫ বার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফে এসেছেন।নিজ পরিচয় গোপন রেখেই দরবার শরীফে আসা-যাওয়া করছেন।প্রথম যেদিন এসেছিলেন হুজুরকেবলা সেদিন যে অমায়িক ব্যবহার করেছিলেন তা ভুলবার নয়।সেই থেকে এক আকষন পয়দা হয়েছে। মাঝে মাঝেই তাই দরবারে আসেন হুজুরকে দেখার জন্য। তখনও তিনি মুরীদ হন নি।
এক বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা থেকে দরবার শরীফে আসলেন। সেদিন অনেক মুরীদান-আশেকান দরবারে এসেছেন।অনেক ভীড়। আরও দেখলেন হুজরা শরীফের বারান্দায় অনেক তরমুজ। কোন এলাকা থেকে নজরানা এসেছে। অনেকের সাথে ডঃ সামাদ সাহেবও অপেক্ষায়। হুজুর বের হলে দেখা করবেন।মনের অস্থিরতাও দূর হবে।
কিছুক্ষণ পর হুজরা শরীফের দরজা খুলে গেল। কেবলাজান হুজুর বের হয়ে বারান্দায় অনেক তরমুজ দেখে কারা এনেছে জিজ্ঞেস করে তরমুজগুলো পাক শালায় নেওয়ার নিদেশ দিলেন। ডঃ সামাদ সাহেবও ১টি তরমুজ মাথায় তুলে রওয়ানা দিয়েছেন। এমন সময় কেবলাজান হুজুর সামাদ সাহেবকে বল্লেন, ‘বাবা, আপনি না।’ সামাদ সাহেব তরমুজ নীচে নামিয়ে হুজুর কেবলাজানের পাশে দাঁড়ালেন। হুজুর কেবলা কুরসিতে বসলেন। সাথে সাথে অনেক মুরীদান ও আগন্তক হুজুরকেবলাজানকে ঘিরে দাঁড়িয়ে গেল।
হঠাত হুজুরকেবলা সামাদ সাবের দিকে অংগুলী ইশারা করে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বল্লেন, “আপনারা কি উনাকে চিনেন? উনি মাটির নীচে কি সম্পদ লুকিয়ে আছে তা বলতে পারেন।” সামাদ সাহেবতো হতবাক। তিনি অবাক বিস্ময়ে অভিভূত। কারণ তিনিতো হুজুরকে বা দরবার শরীফের কাউকেই বলেননি যে তিনি একজন ভু-তত্ত্ববিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাহলে হুজুর কেবলা কি করে জানলেন?
বেশকিছুকাল পরে অনেক ধমীয় কিতাব অধ্যয়ন করে সামাদ সহেব বুঝতে পেরেছিলেন যে, অন্তরযামী আল্লাহতায়ালা তার বন্ধুদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে অপরাপর মানুষের ভিতর ও বাহিরের খবরাখবরও জানিয়ে দেন।
(তথ্যসূত্রঃ ডঃ সামাদ সাহেব স্ময়ং)

Monday, 3 October 2016

৭২ জন শহিদে কারবালার নামঃ


আল্লাহ পাক শহীদে কারবালার আত্মত্যাগ এর বিনিময়ে ওনাদের উসীলায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করে দিন।- আমিন
(1) হযরত সৈয়েদেনা ইমাম হুসাঈন ইবনে আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম) রাদিআল্লাহু
(2) হযরত আব্বাস বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল কারবলা)
(3) হযরতসৈয়েদেনা আলী আকবর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু )
(4) হযরত সৈয়েদেনা আলী আসগর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু)
(5) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(6) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আলী( কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(7) হযরত সৈয়েদেনা উসমান বিনআলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(8) হযরতসৈয়েদেনা আবু বকরবিন আলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(9) হযরত সৈয়েদেনা আবু বকর বিন হাসান(রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(10) হযরত সৈয়েদেনা কাসিম বিন হাসান(রাদিআল্লাহুু)
(11) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাদিআল্লাহু )
(12) হযরত সৈয়েদেনা আওন বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(13) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(14) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিনআকীল(রাদিআল্
লাহু)
(15) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(16) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আকীল
(রাদিআল্লাহু)
(17) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল রহমান বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(18) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(19) হযরত ওনস বিন হাস` আসাদী (রাদিআল্লাহু)
(20) হযরত হাবিব বিন মাজাহির আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(21) হযরত মুসলিম বিন আওসাজা আসাদী(রাদিআল্লাহু )
(22) হযরত কাইস বিন মাসহার আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(23) হযরত আবু সামামা উমরু বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু
(24) হযরত বুরির হামদািন(রাদিআল্লাহু
(25) হযরত হানালাবিন আসাদ( রাদিআল্লাহু)
(26) হযরত আবিস শাকরি(রাদিআল্লাহু) (27) হযরত আব্দুল রহমান
রাহবি(রাদিআল্লাহু)
(28) হযরত সাইফ বিন হাস` (রাদিআল্লাহু)
(29) হযরত আমির বিন আব্দুল্লাহ হামদানি(রাদিআল্লাহু)
(30) হযরত জুনাদা বিন হাস`(রাদিআল্লাহু)
(31) হযরত মাজমা বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু)
(32) হযরত নাফে বিন হালাল (রাদিআল্লাহু)
(33) হযরত হাজ্জাজ বিন মাসরুক (রাদিআল্লাহু) মুয়াজ্জিন এ
কাফেলা
(34) হযরত ওমর বিন কারজা (রাদিআল্লাহু)
(35) হযরত আব্দুল রহমান বিন আবদে রব(রাদিআল্লাহু)
(36) হযরত জুনাদা বিন কাব(রাদিআল্লাহু)
(37) হযরত আমির বিন জানাদা(রাদিআল্লাহু)
(38) হযরত নাঈম বিন আজলান(রাদিআল্লাহু)
(39) হযরত স্বাদ বিন হাস`(রাদিআল্লাহু) (40) হযরত জুহায়ের বিন
কাইন(রাদিআল্লাহু)
(41) হযরত সালমান বিন মাজারাইব (রাদিআল্লাহু)
(42) হযরত সাঈদ বিন ওমর(রাদিআল্লাহু)
(43) হযরত আব্দুল্লাহ বিন বাসির (রাদিআল্লাহু)
(44) হযরত ইয়াজিদবিন জাঈদ কানদি(রাদিআল্লাহু)
(45) হযরত হারব বিন ওমর উল কাইস(রাদিআল্লাহু
(46) হযরত জাহির বিন আমির(রাদিআল্লাহু:)
(47) হযরত বাসির বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(48) হযরত আব্দুল্লাহ আরওয়াহ গাফফারি(রাদিআল্লাহু)
(49) হযরত জন (রাদিআল্লাহু)
(50) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(51) হযরত আব্দুল আলা বিন ইয়াজিদ (রাদিআল্লাহু)
(52) হযরত সেলিম বিন আমির(রাদিআল্লাহু) আজদী
(53) হযরত কাসিম বিন হাবীব(রাদিআল্লাহু)
(54) হযরত জায়েদ বিন সেলিম (রাদিআল্লাহু)
(55) হযরত নোমান বিন ওমর (রাদিআল্লাহু) আবদী
(56) হযরত ইয়াজিদ বিন সাবিত (রাদিআল্লাহু)
(57) হযরত আমির বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(58) হযরত সাইফ বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(59) হযরত জাবির বিন হাজ্জজি(রাদিআল্লাহু)
(60) হযরত মাসুদ বিন হাজ্জজি (রাদিআল্লাহু)
(61)হযরত আব্দুল রহমান বিন মাসুদ(রাদিআল্লাহু)
(62) হযরত বাকের বিন হাই
(63) হযরত আম্মার বিন হাসান তাই(রাদিআল্লাহু)
(64) হযরত জুরঘামা বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(65)হযরত কানানা বিনআতিক(রাদিআল্লাহু)
(66) হযরত আকাবা বিন স্লাট (রাদিআল্লাহু)
(67)হযরত হুর বিন ইয়াজিদ তামিমি (রাদিআল্লাহু)
(68) হযরত আকাবা বিন স্লট (রাদিআল্লাহু)
(69) হযরত হাবালা বিন আলী শিবানী (রাদিআল্লাহু)
(70) হযরত কানাবা বিন ওমর(রাদিআল্লাহুতায়াল আনহু)
(71) হযরত আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকতার (রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(72) হযরত গোলাম এ তুরকি (রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)

Thursday, 21 July 2016

মানত ভঙ্গ করার পরিণতি


ফরিদপুর জেলার এক কৃষক, যিনি বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর (কুঃ ছেঃ আঃ) একজন মুরীদ, দরবার শরীফে গিয়ে হযরত কেবলাজন হুজুরের কাছে অতি উদ্বেগের সাথে নালিশ জানালেন যে, তিনি তার জমিতে বেগুনের চাষ করেন। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে সব বেগুন খেয়ে ফেলে, নষ্ট করে ফেলে। লোকটির নালিশ শুনে পীর কেবলাজান খুব অবাক হয়ে মধুর কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন বাবা? বুলবুলি পাখি আপনার বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে কেন?”
আগত জাকের ভাই এবার বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বললেন, “ হুজুর, আমি জমিতে বেগুনের চাষ করে নিয়্যত করেছিলাম যে, প্রথম ফলনের সব বেগুন হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেব। কিন্তু প্রথম ফলন খুব ভাল হওয়াতে এবং বেগুনের দামও হঠাত খুব বেড়ে যাওয়াতে নিয়্যত পাল্টে ফেলে মনে মনে ঠিক করলাম যে, এবার না হয় দরবার শরীফে বেগুন নাইবা দিলাম। ভালো মূল্যে এবারের বেগুন গুলো বিক্রি করে পুজি বাড়িয়ে পরবর্তী বছরে বেগুন দরবার শরীফে দিয়ে দেব”। এ পর্যন্ত বলে চাষী একটু ঢোক গিললেন। পরের কথা গুলো বলার আগে হুজুর পাকই জিজ্ঞাসা করলেন, “তারপর কি হলো বলেন।” বেগুন চাষী জাকের ভাই জানলেন যে, দ্বিতীয় দফায় বেগুন গাছে ফুল ধরতে শুরু করলো, তখন কোথা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে তার ক্ষেতের বেগুন ফুল খাওয়া শুরু করল। ফলে সেবার ফলনও খুব কম হলো। তাই সেবারও নিয়্যত পাল্টে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এত কম ফলনের বেগুন দরবারে না দিয়ে পরর্বতী ফলনে (তৃতীয় দফায়) যে বেগুন হবে সেগুলো হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেবেন, আর এতে কোন অন্যথা করবেন না। কিন্তু পরবর্তী দফায় হতভাগ্য বেগুন চাষীর কপালের দূর্ভোগ আরো বেড়ে গেল। এবার আগের চেয়েও অনেক বেশী সংখ্যক বুলবুলি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বেগুনের শুধু ফুলই নয়, ফুল শুদ্ধ গাছের ডগা পর্যন্ত খেয়ে ফেলল।
ঠোকর দিয়ে সব গাছ একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। ফলে বেগুন চাষী এখন সর্বস্বান্ত হবার পথে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) স্মরণাপন্ন হয়েছেন। উদ্দেশ্য, খাজাবাবা যেন দয়া করে এ মহা মছিবত থেকে উদ্ধারে তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করেন।
সব শুনে হযরত কেবলাজান হুজুর আপন স্বভাবজাত মধুর সুরে বিস্ময়ের কন্ঠে বললেন, “বাবা, বুলবুলি পাখি যে আপনাকে শুদ্ধ খেয়ে ফেলেনি, এটাই আপনার পরম সৌভাগ্য। ওলী আল্লাহদের সাথে মুনাফেকী করা ঠিক নয়”।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ) ছাহেবের কতিপয় অবিস্মরনীয় কারামত)

Monday, 18 July 2016

মায়ের মমতা এবং হযরত সোলায়মান(আঃ)-এর বিচক্ষণতা



নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর যামানার ঘটনা। দুইজন মহিলা তাহাদের নিজ নিজ কোলে একটি করিয়া শিশু বহন করিয়া কোথাও যাইতেছিল। পথিমধ্যে এক মহিলা বাঘের আক্রমণের মুখে পতিত হইয়া স্বীয় শিশুটি হারাইল।নিজের শিশু হারাইয়া কি করিবে কিছু স্থির করিতে না পারিয়া তাহার সঙ্গী মহিলাটির কোল হইতে উহার শিশুটিকে ছিনিয়া নিয়া বলিল, এই শিশুটি আমার। তোমার শিশু বাঘে নিয়া গিয়াছে। উভয়ের মধ্যে খুব বাচসা ও কথা কাটাকাটি হইল। পরিশেষে উহারা উভয়ে নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে উপস্থিত হইয়া একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানাইল।
নবী হযরত দাউদ (আঃ) বিচার শেষে সেই কুচক্রী মহিলাটিকে শিশুটি দিয়া দিলেন। এই খবর শুনিয়া তাহার ছেলে হযরত সোলায়মান (আঃ) স্বীয় পিতার নিকট বলিলেন, “আব্বাজান! এই ব্যাপারে আমার নিকট একটি চমতকার সমাধান আছে, আপনি অনুমতি দিলে শুনাইতে পারি।” নবী হযরত দাঊদ (আঃ) অনুমতি দিলে হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, আমি শিশুটিকে এখনই দুই টুকরা করিয়া অর্ধেক করে উভয়ের মধ্যে বন্টন করিয়া দিব।” এই ফয়সালা শুনিয়া কুচক্রী মহিলাটি নিশ্চুপ রহিল। আর শিশুর আসল মাতা বলিয়া উঠিল, “ হুযুর! শিশুটি উহাকে দিয়া দিন। আল্লাহর কসম দিতেছি শিশুটিকে দুই টুকরা করিবেন না।” তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, শিশুর আসল মাতা হইল এই রমণীই। যাহার অন্তরে মাতৃ মমতা নিহিত রহিয়াছে, সেই উহাকে দ্বিখন্ডিত করনের ফয়সালায় বাধা হইয়া নিজ দাবী পরিত্যাগ করিয়াছে। অতঃপর শিশুটিকে তাহার আসল মাতার নিকট অর্পণ করিলেন।
তথ্যসূত্রঃ
* মিশকাত শরীফ- ৫০০ পৃঃ
* ফতহুল বারী দ্বাদশ খন্ড- ২৬৮ পৃঃ
* ইসলামের জীবন্ত কাহিনী- ১০০ পৃঃ

Friday, 6 May 2016

তরীকা কী "তরীকার উৎপত্তি """"পর্ব ২




এ কথাটাই প্রমান করে হযরত আলী (রাঃ)এর একটি উক্তির মাধ্যমে
'''হাজা কুরআনুন নাছয়াতুন আনা কুরআন নাতেকুন """।
অর্থাৎঃ "এই কুরআন নির্বাক, আমার কুরআন স্ববাক "।অর্থাৎ ওহী বিধান, আল্লাহর ওহীর বাস্তবায়ক মহান নবী রাসুলে পাক (সাঃ)।হযরত ওসমান (রাঃ)পুস্তক আকারে যখন কুরআন লিপিবদ্ধ করলেন তখন হযরত আলী (রাঃ)বর্ণিত উক্তি করলেন, 'হে ওসমান (রাঃ)!আপনার লিখিত কুরআন বিধান। যা স্বয়ং বাস্তবায়িত হয় না, বাস্তবায়িত করতে হয়। আর আমি আলী (রাঃ)বাস্তাবায়িত কুরআন। 'রাসুলে পাক (সাঃ)ছিলেন জীবন্ত কুরআন। সেই জীবন্ত কুরআনের বাস্তবতা আমি আলী (রাঃ) এর মধ্যে বিদ্যমান।
রাসুলে পাক (সাঃ)একমাত্র আলী (রাঃ) এর সম্পর্কে বলেছেন (আনা মাদীনাতুল এল্ম ওয়া আলীয়ু বাবুহা) অর্থাৎ "আমি হলাম এলেমের শহর আর আমার এই এলেমের দরওয়াজা হযরত আলী (রাঃ)"। "রাসুল (সাঃ) স্বয়ং কুরআন এ জন্য যে কুরআনের এমন কোন বিধান নেই,যা রাসুলে পাক (সাঃ) এর জীবনে বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই ধাঁচেই হযরত আলী (রাঃ)এর জীবন গঠিত। তার বাস্তব চিত্র রাসুলে পাক (সাঃ) এর ধরা না পরলে একমাত্র হযরত আলী (রাঃ) সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এ মুল্যবান মন্তব্য করতেন না। সে জন্যই বলতে হচ্ছে, কুরআনের বাস্তব নমুনা হযরত আলী (রাঃ)এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কুরআন বিধান। বাস্তবায়িত বিধান রাসুল (সাঃ)। অনুরুপ হযরত আলী (রাঃ)।যে পার্থক্য আছে তা সাধারণ্যের বোধগম্যেরর বাইরে। এই রাসুলে পাক সাঃ কে ছাহাবায় কেরাম স্বচহ্মে দেখতেন এবং হুবহু অনুকরন করতেন। যেই বিষয়টি বুঝতে কস্ট হতো, সেই বিষয় প্রশ্ন করে জেনে নিয়ে অনুরুপ অনুশীলন ও অনুকরণ করতেন। রাসুলে পাক সাঃ যে ভাবে চলতেন, খেতেন,হাটতেন,বসতেন,রোজা,নামাজ,
হজ্জ ইত্যাদি কায়েম ও আদায় করতেন অনুরুপ ছাহাবায়ে কেরাম অনুকরণ করতেন। অতএব রাসুলে পাক (সাঃ)এর সকল ক্রিয়া-কর্মই তরীকা। রাসুলে পাক (সাঃ) কোন কিছুই বলতেন না, যা তিনি করতেন না। কারন রাসুলে পাক (সাঃ)যা বলতেন, তা যদি বাস্তবে তিনি স্বয়ং না করতেন, তা হলে ছাহাবায়ে কেরাম কোন দিনই তা বাস্তবায়ন করতে সহ্মম হতেন না। সাধারন উম্মত তো নয়-ই। এই কারন ও বাস্তবায়নকে 'তরীকা 'বলা হয়। হযরত আলী (রাঃ) তাই সত্যই বলেছেন যে 'আমার কুরআন স্ববাক। 'অর্থাৎ আমি আলী (রাঃ)এর মধ্যে পবিত্র কুরআনের বিধান বাস্তবে বাস্তবায়িত।
তাই শরীয়ত বিধান,আইন, ল ক্যাটালক। এই আইন মোতাবেক কাজ করার নাম "তরীকা "।"চলবে

একাধিক পীর গ্রহণ করা জায়েজ কি না ?




প্রথমে দেখিতে হইবে মোরশেদ কামেল কি নাকেছ। যদি নাকেছ হয়, তবে বাঘ দেখিয়ে যেরুপ বকরী পলাইয়া যায়, সেরুপ তাহার নিকট হইতে ভাগিয়া যাওয়া  ফরজ ।আর যদি কামেল হন তবে তাহাকে ছাটিয়া অন্য পীর গ্রহণ করা নিষেধ। কিন্তু তিন কারনে অন্য পীর গ্রহণ করা জায়েজ আছে ।প্রথম যদি তাঁহার খেদমত করা সত্ত্বেও ফয়েজ না পাওয়া যায়। কেমন খেদমত যেরুপ মেহনত পরিশ্রম করিয়া হালাল হুজির দ্বারা পেট পূর্ণ করা যায় ।সামান্য খানার জন্য কত মেহনত ।আর আকেবাতের বেহেশতের বাদশাহী হাছেল করিতে  কি  রকম তপস্যার আবশ্যক বুঝিয়া দেখ ।দেখ হযরত মওলানা রুমী (রঃ) সাহেব কি রকম কঠোর খেদমত করিয়া তাঁহ্র পীর হযরত শামছ তীবরিজি (রঃ) সাহেবকে  বাধ্য করিয়াছিলেন ।দেখ হযরত ফরিদউদ্দিন আত্তার (রঃ) সাহেব যিনি বার বৎসর গাছের পাতা খাইয়া বার বৎসর কাঠের রুটি দেকাইয়া আপন নফছকে ভাড়াইয়া রাখিয়াছিলেন ।আর বার বৎসর দু পায়ে রশি লাগাইয়া কুয়াতে ঝুলিয়া আল্লাহ্‌ এবাদত করিয়াছিলেন ।এমন কি তাঁর চক্ষু পর্য্যন্ত কাককে খাওয়াইয়াছিলেন ।তিনিও কিরুপ কঠোর খেদমত করিয়া আপন পীর হযরত কুতুবুদ্দিন (রঃ) সাহেবকে বাধ্য করিয়াছিলেন বুঝিয়া দেখ ।পীরের সহিত তাঁহার এই সর্ত ছিল যে সাত বৎসর পর্য্যন্ত প্রত্যহ পীরকে না চাহিতে অজুর পানি যোগাইতে হইবে এবং তাহাজ্জতের নাআমাজের সময় পানি গরম করিয়া দিতে হবে ।সাত বৎসরের মধ্যে যদি ইহার ব্যতিক্রম হয় কিংবা পানির বর্তন ভাঙ্গিয়া যায় তবে আরও সাত বৎসর ঐরুপ কঠিন খেদমত করিতে হইবে।
যেহেতু আল্লার বীর হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহেব দেলের মুখে তাহা স্বীকার করিয়া পীরের খেদমতে নিযুক্ত হইলেন। সাত বৎসরের শেষ রাত্রিতে হঠাৎ জলপাত্র ভাঙ্গিয়া গেল। তিনি তখন সত্বর আর একটি বর্তন সংগ্রহ করিয়া অজুর পানি গরম করিয়া দিলেন। পরদিন সকালে পীর সাহেব তাঁহাকে ডাকিয়া ফরমাইলেন, বাবা তুমি আপন অঙ্গিকার ঠিকমত পালন করিতে পার নাই, সুতরাং তোমামে আরও সাত বৎসর খেদমত করিতে হইবে ।হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহ্রব দেমতে আরও সাত বৎসর ঐরুপ খেদমত করিতে লাগিলেন। শেষ দিনের রাত্রিতে প্রবল বেগে ঝড় বৃষ্টি হওয়াতে শহরের আগুন নিভিয়া গেল অতঃপর তিনি যৎপরনাস্তি ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। ঐ সময়ে হঠাৎ দরিয়ার পরপারে তাঁহার দৃষ্টি পড়াতে একটি আলো নজরে পড়িল। একে অন্ধকার রাতি তাহাতে জন্মানবের সাড়া নাই, সমস্ত স্থান নিরব ও নিস্তব্ধ এই অবস্থায় তিনি দরিয়ার কিনারায় পৌছিলেন। সেথায় কোন নৌকাদি ছিল না সুতরাং তিনি একটি মরা মানুশকে ধরিয়া পরপারে পৌছিলেন। তৎপর তিনি দেখিলেন যে এক বেশ্যার ঘড়ে আগুন জ্বলিতেছে। তাহাকে বলিলেন, মা তুমি দয়া করিয়া আমাকে একটু আগুন দাও। বেশ্যা তাঁহার রুপের ছটায় ও নয়নের শোভায় বিমোহিত হইয়া উন্মাদিনীর ন্যায় বলিয়া উঠিল, তুমি আমাকে মা বলিলে কেন? আমি তো কাহারও মা নই।  তোমাকে আমি আগুন দিব না। তা দিতে পারি যদি তোমার একটি চক্ষু খুলিয়া দাও। হযরত ফরিদ উদ্দিন (রঃ) সাহেব তাহাকে এক চক্ষু খুলিয়া দিয়া আগুন লইয়া দরিয়ার কিনারায় আসিলেন। পূর্ব্বৎ মরা মানুষ ধরিয়া নদী পার হইলেন।পীর সাহেব না চাহিতেই তিনি গরম পানি নিয়া হাজির করিলেন। রওশন দেল-ওয়ালা পীর বাতেনী চক্ষে সবই দেখিয়াছিলেন। সে কথা প্রকাশ না করিয়া শিষ্যকে জিগাসা করিলেন, বাবা তুমি মাথায় এরুপভাবে দেস্তার বাঁধিয়াছ কেন? আর কেনই বা এরূপ ছটফট করিতেছ?” তিনি উত্তর করিলেন, হযরত!আমার চক্ষু পীড়া হইয়াছে।‘’অতঃপর পীরের দোয়ায় তাঁহার চক্ষু মিলিল ।পরদিন হযরত কুতুব উদ্দিন (রঃ) সাহেব তাঁহাকে নিকটে  বসাইয়া অতীব স্নেহে বাতেনী নেয়ামত বখশেষ করতঃ খেলাফতি দিয়া বিদায় করিলেন।    

Tuesday, 22 March 2016

উরস শরিফ আরবী শব্দ না ফারসি নয়।



 আয় আহমেদকে বলছি-উরস ফারসি নয়, আরবি শব্দ। যার একটি অর্থ পোস্টে দেওয়া হয়েছে।আর একটি অর্থ আপনি দিয়েছেন।এ প্রসংগে বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ) ছাহেব তার নসিহতে আরও বলেন,‘উরস’ আরবী শব্দ। লোগাত বা অভিধানে ইহার নানাবিধ অর্থ পরিলক্ষিত হয়।ওলেমা, বিবাহ বা বিবাহ উপলক্ষে খানা-পিনা, ফূলশয্যার বাসর যাপন ইত্যাদি উরস শব্দের আভিধানিক অর্থ। লোগাত সাঈদী, লোগাত ফেরোজী বা মেছবাহুল লোগাতে উল্লিখিত অর্থ দেখা যায়। ইহা ছাড়াও উরস শব্দের আরও দুইটি বিশেষ অর্থ পরিলক্ষিত হয়। যথাঃ
মিলন,
ওলী-আল্লাহগণের বা পীরে কামেলগণের মৃতুবার্ষিকীতে তাঁহাদের পবিত্র রূহে ছওয়াব রেছানীর উদ্দেশ্যে উদ্‌যাপিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
ডঃ শেখ গোলাম মাক্‌ছুদ সম্পাদিত ‘‘Perso Arabic elements in Bengali” গ্রন্থে উরস শব্দের নিম্নলিখিত দুইটি অর্থ দেখা যায়ঃ- Anniversary in memory of a saint-যাহার অর্থ দাঁড়ায়ঃ কোন খোদাতত্ত্বজ্ঞ সাধকের মৃত্যুবার্ষিকী উৎযাপন অথবা সাধকের স্মরণে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি। ডঃ এনামুল হক সম্পাদিত এবং বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে উরস শব্দের অর্থ লেখা আছেঃ ওলী দরবেশের বেছালতে তাঁহাদের সমাধিস্থলে পবিত্র অনুষ্ঠান বিশেষ।
উরস শব্দের মূল ভাষাগত বা ব্যুতপত্তিগত অর্থ মিলন। ওলী-আল্লাহসকল বা খোদাতত্ত্বজ্ঞ সাধকবর্গ ইন্‌তেকালের সাথে সাথে খোদাতায়ালার সান্নিধ্যে চলিয়া যান, খোদাতায়ালার সহিত মিলিত হন। এই মিলন হয় মাশুকের সহিত আশেকের, বিশ্ব আত্মার সহিত পুণ্যাত্মার। এই মিলন বড় আনন্দময়। আর মৃত্যুই এই মহামিলনে সহায়তা করে বিধায় রাসূলে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, ‘‘মৃত্যু একটি সেতু যাহা বন্ধুর সাথে বন্ধুর মিলন ঘটায়।” এই আনন্দময় আধ্যাত্মিক মহামিলন নবী (আঃ) গণ ও নায়েবে নবী তথা ওলী-আল্লাহগণের ভাগ্যেই ঘটে। কারণ তাহারা বন্ধুত্বের মর‌্যাদা প্রাপ্ত। তাহারা নাফসে আম্মারার সাথে জেহাদ করিয়া তথা জেহাদে আকবরে নাফসকে পর‌্যুদস্ত করিয়া, দুনিয়ার দাসত্ব মুক্ত হইয়া, দৈহিক আকর্ষণ ছিন্ন করিয়া, দুনিয়ায় অবস্থান কালেই খোদাতায়ালার সান্নিধ্যে পৌঁছান, খোদাতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করেন এবং তদীয় বন্ধুত্বের আসনে আসীন হন। তাই ইন্‌তেকালের অব্যবহিত পরেই তাহারা খোদাতায়ালার সহিত বা বিশ্ব আত্মার সহিত মিলিত হওয়ার সৌভাগ্যে সৌভাগ্যশালী হন। ইহা পরম আনন্দঘন এক আধ্যাত্মিক মিলন।

যে দিবসে সাধকের পুণ্যাত্মা বিশ্ব আত্মার সহিত মিলিত হয়, সেই দিবসে তাঁহার পবিত্র রূহে ছওয়াব রেছানীর উদ্দেশ্যে যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি উদযাপন করা হয়-তাহা ‘‘উরস” নামে খ্যাত।