Showing posts with label islamik kahini. Show all posts
Showing posts with label islamik kahini. Show all posts

Monday, 3 October 2016

৭২ জন শহিদে কারবালার নামঃ


আল্লাহ পাক শহীদে কারবালার আত্মত্যাগ এর বিনিময়ে ওনাদের উসীলায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করে দিন।- আমিন
(1) হযরত সৈয়েদেনা ইমাম হুসাঈন ইবনে আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম) রাদিআল্লাহু
(2) হযরত আব্বাস বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল কারবলা)
(3) হযরতসৈয়েদেনা আলী আকবর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু )
(4) হযরত সৈয়েদেনা আলী আসগর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু)
(5) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(6) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আলী( কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(7) হযরত সৈয়েদেনা উসমান বিনআলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(8) হযরতসৈয়েদেনা আবু বকরবিন আলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(9) হযরত সৈয়েদেনা আবু বকর বিন হাসান(রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(10) হযরত সৈয়েদেনা কাসিম বিন হাসান(রাদিআল্লাহুু)
(11) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাদিআল্লাহু )
(12) হযরত সৈয়েদেনা আওন বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(13) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(14) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিনআকীল(রাদিআল্
লাহু)
(15) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(16) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আকীল
(রাদিআল্লাহু)
(17) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল রহমান বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(18) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(19) হযরত ওনস বিন হাস` আসাদী (রাদিআল্লাহু)
(20) হযরত হাবিব বিন মাজাহির আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(21) হযরত মুসলিম বিন আওসাজা আসাদী(রাদিআল্লাহু )
(22) হযরত কাইস বিন মাসহার আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(23) হযরত আবু সামামা উমরু বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু
(24) হযরত বুরির হামদািন(রাদিআল্লাহু
(25) হযরত হানালাবিন আসাদ( রাদিআল্লাহু)
(26) হযরত আবিস শাকরি(রাদিআল্লাহু) (27) হযরত আব্দুল রহমান
রাহবি(রাদিআল্লাহু)
(28) হযরত সাইফ বিন হাস` (রাদিআল্লাহু)
(29) হযরত আমির বিন আব্দুল্লাহ হামদানি(রাদিআল্লাহু)
(30) হযরত জুনাদা বিন হাস`(রাদিআল্লাহু)
(31) হযরত মাজমা বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু)
(32) হযরত নাফে বিন হালাল (রাদিআল্লাহু)
(33) হযরত হাজ্জাজ বিন মাসরুক (রাদিআল্লাহু) মুয়াজ্জিন এ
কাফেলা
(34) হযরত ওমর বিন কারজা (রাদিআল্লাহু)
(35) হযরত আব্দুল রহমান বিন আবদে রব(রাদিআল্লাহু)
(36) হযরত জুনাদা বিন কাব(রাদিআল্লাহু)
(37) হযরত আমির বিন জানাদা(রাদিআল্লাহু)
(38) হযরত নাঈম বিন আজলান(রাদিআল্লাহু)
(39) হযরত স্বাদ বিন হাস`(রাদিআল্লাহু) (40) হযরত জুহায়ের বিন
কাইন(রাদিআল্লাহু)
(41) হযরত সালমান বিন মাজারাইব (রাদিআল্লাহু)
(42) হযরত সাঈদ বিন ওমর(রাদিআল্লাহু)
(43) হযরত আব্দুল্লাহ বিন বাসির (রাদিআল্লাহু)
(44) হযরত ইয়াজিদবিন জাঈদ কানদি(রাদিআল্লাহু)
(45) হযরত হারব বিন ওমর উল কাইস(রাদিআল্লাহু
(46) হযরত জাহির বিন আমির(রাদিআল্লাহু:)
(47) হযরত বাসির বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(48) হযরত আব্দুল্লাহ আরওয়াহ গাফফারি(রাদিআল্লাহু)
(49) হযরত জন (রাদিআল্লাহু)
(50) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(51) হযরত আব্দুল আলা বিন ইয়াজিদ (রাদিআল্লাহু)
(52) হযরত সেলিম বিন আমির(রাদিআল্লাহু) আজদী
(53) হযরত কাসিম বিন হাবীব(রাদিআল্লাহু)
(54) হযরত জায়েদ বিন সেলিম (রাদিআল্লাহু)
(55) হযরত নোমান বিন ওমর (রাদিআল্লাহু) আবদী
(56) হযরত ইয়াজিদ বিন সাবিত (রাদিআল্লাহু)
(57) হযরত আমির বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(58) হযরত সাইফ বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(59) হযরত জাবির বিন হাজ্জজি(রাদিআল্লাহু)
(60) হযরত মাসুদ বিন হাজ্জজি (রাদিআল্লাহু)
(61)হযরত আব্দুল রহমান বিন মাসুদ(রাদিআল্লাহু)
(62) হযরত বাকের বিন হাই
(63) হযরত আম্মার বিন হাসান তাই(রাদিআল্লাহু)
(64) হযরত জুরঘামা বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(65)হযরত কানানা বিনআতিক(রাদিআল্লাহু)
(66) হযরত আকাবা বিন স্লাট (রাদিআল্লাহু)
(67)হযরত হুর বিন ইয়াজিদ তামিমি (রাদিআল্লাহু)
(68) হযরত আকাবা বিন স্লট (রাদিআল্লাহু)
(69) হযরত হাবালা বিন আলী শিবানী (রাদিআল্লাহু)
(70) হযরত কানাবা বিন ওমর(রাদিআল্লাহুতায়াল আনহু)
(71) হযরত আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকতার (রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(72) হযরত গোলাম এ তুরকি (রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)

Thursday, 21 July 2016

মানত ভঙ্গ করার পরিণতি


ফরিদপুর জেলার এক কৃষক, যিনি বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর (কুঃ ছেঃ আঃ) একজন মুরীদ, দরবার শরীফে গিয়ে হযরত কেবলাজন হুজুরের কাছে অতি উদ্বেগের সাথে নালিশ জানালেন যে, তিনি তার জমিতে বেগুনের চাষ করেন। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে সব বেগুন খেয়ে ফেলে, নষ্ট করে ফেলে। লোকটির নালিশ শুনে পীর কেবলাজান খুব অবাক হয়ে মধুর কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, “কেন বাবা? বুলবুলি পাখি আপনার বেগুন ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে কেন?”
আগত জাকের ভাই এবার বিস্তারিত সব ঘটনা খুলে বললেন, “ হুজুর, আমি জমিতে বেগুনের চাষ করে নিয়্যত করেছিলাম যে, প্রথম ফলনের সব বেগুন হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেব। কিন্তু প্রথম ফলন খুব ভাল হওয়াতে এবং বেগুনের দামও হঠাত খুব বেড়ে যাওয়াতে নিয়্যত পাল্টে ফেলে মনে মনে ঠিক করলাম যে, এবার না হয় দরবার শরীফে বেগুন নাইবা দিলাম। ভালো মূল্যে এবারের বেগুন গুলো বিক্রি করে পুজি বাড়িয়ে পরবর্তী বছরে বেগুন দরবার শরীফে দিয়ে দেব”। এ পর্যন্ত বলে চাষী একটু ঢোক গিললেন। পরের কথা গুলো বলার আগে হুজুর পাকই জিজ্ঞাসা করলেন, “তারপর কি হলো বলেন।” বেগুন চাষী জাকের ভাই জানলেন যে, দ্বিতীয় দফায় বেগুন গাছে ফুল ধরতে শুরু করলো, তখন কোথা থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে বুলবুলি পাখি এসে তার ক্ষেতের বেগুন ফুল খাওয়া শুরু করল। ফলে সেবার ফলনও খুব কম হলো। তাই সেবারও নিয়্যত পাল্টে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, এত কম ফলনের বেগুন দরবারে না দিয়ে পরর্বতী ফলনে (তৃতীয় দফায়) যে বেগুন হবে সেগুলো হুজুর পাকের দরবারে নজরানা হিসেবে দিয়ে দেবেন, আর এতে কোন অন্যথা করবেন না। কিন্তু পরবর্তী দফায় হতভাগ্য বেগুন চাষীর কপালের দূর্ভোগ আরো বেড়ে গেল। এবার আগের চেয়েও অনেক বেশী সংখ্যক বুলবুলি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে বেগুনের শুধু ফুলই নয়, ফুল শুদ্ধ গাছের ডগা পর্যন্ত খেয়ে ফেলল।
ঠোকর দিয়ে সব গাছ একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলল। ফলে বেগুন চাষী এখন সর্বস্বান্ত হবার পথে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) স্মরণাপন্ন হয়েছেন। উদ্দেশ্য, খাজাবাবা যেন দয়া করে এ মহা মছিবত থেকে উদ্ধারে তার জন্য আল্লাহর দরবারে দু‘আ করেন।
সব শুনে হযরত কেবলাজান হুজুর আপন স্বভাবজাত মধুর সুরে বিস্ময়ের কন্ঠে বললেন, “বাবা, বুলবুলি পাখি যে আপনাকে শুদ্ধ খেয়ে ফেলেনি, এটাই আপনার পরম সৌভাগ্য। ওলী আল্লাহদের সাথে মুনাফেকী করা ঠিক নয়”।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী(কুঃ) ছাহেবের কতিপয় অবিস্মরনীয় কারামত)

Monday, 18 July 2016

মায়ের মমতা এবং হযরত সোলায়মান(আঃ)-এর বিচক্ষণতা



নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর যামানার ঘটনা। দুইজন মহিলা তাহাদের নিজ নিজ কোলে একটি করিয়া শিশু বহন করিয়া কোথাও যাইতেছিল। পথিমধ্যে এক মহিলা বাঘের আক্রমণের মুখে পতিত হইয়া স্বীয় শিশুটি হারাইল।নিজের শিশু হারাইয়া কি করিবে কিছু স্থির করিতে না পারিয়া তাহার সঙ্গী মহিলাটির কোল হইতে উহার শিশুটিকে ছিনিয়া নিয়া বলিল, এই শিশুটি আমার। তোমার শিশু বাঘে নিয়া গিয়াছে। উভয়ের মধ্যে খুব বাচসা ও কথা কাটাকাটি হইল। পরিশেষে উহারা উভয়ে নবী হযরত দাউদ (আঃ) এর দরবারে উপস্থিত হইয়া একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ জানাইল।
নবী হযরত দাউদ (আঃ) বিচার শেষে সেই কুচক্রী মহিলাটিকে শিশুটি দিয়া দিলেন। এই খবর শুনিয়া তাহার ছেলে হযরত সোলায়মান (আঃ) স্বীয় পিতার নিকট বলিলেন, “আব্বাজান! এই ব্যাপারে আমার নিকট একটি চমতকার সমাধান আছে, আপনি অনুমতি দিলে শুনাইতে পারি।” নবী হযরত দাঊদ (আঃ) অনুমতি দিলে হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, আমি শিশুটিকে এখনই দুই টুকরা করিয়া অর্ধেক করে উভয়ের মধ্যে বন্টন করিয়া দিব।” এই ফয়সালা শুনিয়া কুচক্রী মহিলাটি নিশ্চুপ রহিল। আর শিশুর আসল মাতা বলিয়া উঠিল, “ হুযুর! শিশুটি উহাকে দিয়া দিন। আল্লাহর কসম দিতেছি শিশুটিকে দুই টুকরা করিবেন না।” তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) বলিলেন, শিশুর আসল মাতা হইল এই রমণীই। যাহার অন্তরে মাতৃ মমতা নিহিত রহিয়াছে, সেই উহাকে দ্বিখন্ডিত করনের ফয়সালায় বাধা হইয়া নিজ দাবী পরিত্যাগ করিয়াছে। অতঃপর শিশুটিকে তাহার আসল মাতার নিকট অর্পণ করিলেন।
তথ্যসূত্রঃ
* মিশকাত শরীফ- ৫০০ পৃঃ
* ফতহুল বারী দ্বাদশ খন্ড- ২৬৮ পৃঃ
* ইসলামের জীবন্ত কাহিনী- ১০০ পৃঃ

Sunday, 3 July 2016


¤.বিশ্বনবী (সাঃ) একদিন বাহির থেকে এসে তাঁর নাতি হাসান এবং হোসাইনকে আদর করছিলেন।হঠাৎ হোসাইন (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, বলেনতো নানা আপনি বড় নাকি আমি বড়? রাসূল(সাঃ) হেসে বললেন,"দুনিয়ার সকল মানুষের নেতা আমি।সেজন্য আমিতো অবশ্যই বড়"কিন্তুছোট্ট হোসাইন বললেন,না নানা,আমি আপনার চেয়ে বড়।
রাসূল(সাঃ) বললেন, "তুমি আমারচেয়ে বড়, এটার যুক্তি দেখাওতো?
"ছোট্ট হোসাইন বললেন,দেখি আপনার বাবার নামকি বলেন?
রাসূল (সাঃ) বললেন আবদুল্লাহ।
.
হোসাইন বললেন, শুধুই আবদুল্লাহ। আগেও কিছু নাই,পরেও কিছু নাই। আমার বাবার নামকি জানেন ? আমার বাবার নাম আসাদুল্লাহিল গালিব, আলী ইবনে আবি তালিব,সারা দুনিয়ার কাফিরদের যম।আপনি এমন এক আব্বা পেয়েছেন কি?তাহলে তো আমিই আপনার চেয়ে বড়।রাসুল (সাঃ) অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন হোসাইনের দিকে।.হোসাইন (রাঃ) বললেন,নানা এখানেই শেষ নয়। দেখি আপনার আম্মার নামকি বলেন।
রাসূল (সাঃ) বললেন,আমিনা।
.হোসাইন বললেন, শুধুই আমিনা।আর আমার আম্মার নামকি জানেন? আমার আম্মার নাম হলো,ফাতিমাতুজ জাহরা, জান্নাতের সর্দারীনী। এরকম একটি আম্মা কি আপনি পেয়েছেন? তাহলেতো এদিক দিয়েও,আমি আপনার চেয়ে বড়।রাসূল (সাঃ) আবারো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। হোসাইন আবার বললেন,নানা এখানেই শেষ নয় আরো আছে। দেখি বলুনতো আপনার নানির নামকি? রাসুল (সাঃ) তাঁর নানির বললেন।এবার হোসাইন বললেন, "আমার নানির নাম কি জানেন? আমার নানির নাম হলো,খাদিজাতুল কোবরা,জান্নাতে প্রথম মহিলা হিসেবে প্রবেশ করবেন।এরকম নানি কি আপনি পেয়েছেন? তাহলে তো এখান দিয়েও আমি আপনার বড়" .রাসূল (সাঃ) নিজের চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।.হোসাইন বললেন,নানা আরো আছে আরো আছে।বলুনতো আপনার নানার নাম কি??রাসূল (সাঃ) উনার নানার নামবললেন।এবার হোসাইন বললেন, আমার নানার নাম কি জানেন? আমার নানার নাম হলো রহমাতুল্লিল আ'লামিন,বিশ্বনবী মোস্তফা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এই রকম একজন নানা কি আপনি পেয়েছেন??? তাহলে আপনি নিজেই বলুন,কে বড়? আপনি বড়নাকি আমি বড়?.
রাসূল (সাঃ) হোসাইনকে শক্তকরে জড়িয়ে ধরে বললেন,হ্যাঁ হোসাইন।
আল্লাহ আজ তোমাকে আমার চেয়ে বড় বানিয়ে দিয়েছেন।.


Tuesday, 21 June 2016

বনের পশু কামেল পীরের কথা শুনে


ফরিদপুর জেলার বাহাদুরপুর এলাকার একজন চাষী তার দুই বিঘা জমিতে আখের চাষ করে সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তার আখ ক্ষেতে ভীষন শিয়ালের উপদ্রব শুরু হলো। প্রতি রাতে দলবদ্ধ ভাবে শিয়াল ক্ষেতের আখ খেয়ে ফেলে। নানা কৌশল অবলম্বন করেও শিয়ালের আক্রমন থেকে ক্ষেতের আখ রক্ষা করা যাচ্ছেনা দেখে খুব শক্ত করে ক্ষেতের চারদিকে বেড়া দিলেন।
কিন্তু এতে ফল হলো উল্টো। শিয়ালের আক্রমন আরো বেড়ে গেল। এখন দলে দলে অনেক শিয়াল একত্রে এসে ক্ষেতের বেড়া ভেঙ্গে আগের চেয়েও বেশি আখ নষ্ট করে ফেলতে লাগলো। বেচারা গরীব চাষী একেবারে নিঃস্ব হওয়ার পথে। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় না দেখে একজনের পরামর্শে আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে গিয়ে যামানার মহা ইমাম, মহা মুজাদ্দেদ বিশ্বওলী হযরত শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) কেবলাজন হুজুরের কাছে তার দুরাবস্থার কথা জানালেন এবং শিয়ালের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হুজুর কেবলাজানের দয়া ভিক্ষা চাইলেন। লোকটির অসহায় অবস্থার কথা শুনে মানব দরদী, কামেল মোকাম্মেল ওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব অত্যন্ত মধুর কন্ঠে আগত চাষীকে এক অভিনব এবং আশ্চর্য উপদেশ দিয়ে বললেন,“ বাবা আপনি গিয়ে আখ ক্ষেতের বেড়া খুলে দিবেন। তার পর আবার যখন শিয়াল আসবে তখন আপনি শিয়ালদের দলপতিকে উদ্দেশ্যে করে খুব বিনয়ের সাথে বলবেন, দেখেন আমি খুব গরীব মানুষ। এই আখ ক্ষেতের আখ বিক্রি করেই আমার স্ত্রী-পুত্র পরিজন নিয়ে কোনমতে বেঁচে আছি। আপনারা আমার আখ ক্ষেতের আখ খেয়ে ফেললে আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচবো কি করে? তাই আমার অনুরোধ আপনারা এসে দু চারটা আখ খেয়ে চলে যাবেন। এ পর্যন্ত বলেই কেবলাজন হুজুর তাকে নির্দেশ দিলেন, “যান বাবা, যেভাবে বললাম সেভাবে কাজ করেন গিয়ে।”
অতঃপর বাহাদুরপুরের সেই আখচাষী বাড়ীতে গিয়ে ক্ষেতের বেড়া খুলে দিলেন এবং রাতের বেলায় শিয়ালের আগমনের প্রতিক্ষায় থাকলেন। এক সময় দলপতির নেতৃত্বে একদল শিয়াল আখ ক্ষেতে এসে ঢুকে পড়বে, ঠিক সেই সময় উক্ত চাষী হযরত কেবলাজান হুজুরের শেখানো কথা গুলোই দলপতিকে উদ্দেশ্য করে বললেন। এতে আশ্চর্য কাজ হলো, শিয়ালগুলো আখ ক্ষেত ছেড়ে চলে গেল। আর কখনো দু‘চারটি আখ খেতেও আসেনি।
বিশ্বওলী, মহাওলী, শতাব্দীর মহা কামেল হযরত শাহসূফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেব এভাবে বনের পশুকেও বশীভুত করার বিস্ময়কর কৌশল অতি সাধারণ মানুষকেও শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। একমাত্র বিশ্বাসী আশেক হৃদয় ছাড়া মাশুকের প্রেমের খেলা বুঝতে পারেনা।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) এর কতিপয় অবিস্মসরণীয় কারামত, শিকদার তোফাজ্জল হোসেন।)

Friday, 6 May 2016

তরীকা কী "তরীকার উৎপত্তি """"পর্ব ২




এ কথাটাই প্রমান করে হযরত আলী (রাঃ)এর একটি উক্তির মাধ্যমে
'''হাজা কুরআনুন নাছয়াতুন আনা কুরআন নাতেকুন """।
অর্থাৎঃ "এই কুরআন নির্বাক, আমার কুরআন স্ববাক "।অর্থাৎ ওহী বিধান, আল্লাহর ওহীর বাস্তবায়ক মহান নবী রাসুলে পাক (সাঃ)।হযরত ওসমান (রাঃ)পুস্তক আকারে যখন কুরআন লিপিবদ্ধ করলেন তখন হযরত আলী (রাঃ)বর্ণিত উক্তি করলেন, 'হে ওসমান (রাঃ)!আপনার লিখিত কুরআন বিধান। যা স্বয়ং বাস্তবায়িত হয় না, বাস্তবায়িত করতে হয়। আর আমি আলী (রাঃ)বাস্তাবায়িত কুরআন। 'রাসুলে পাক (সাঃ)ছিলেন জীবন্ত কুরআন। সেই জীবন্ত কুরআনের বাস্তবতা আমি আলী (রাঃ) এর মধ্যে বিদ্যমান।
রাসুলে পাক (সাঃ)একমাত্র আলী (রাঃ) এর সম্পর্কে বলেছেন (আনা মাদীনাতুল এল্ম ওয়া আলীয়ু বাবুহা) অর্থাৎ "আমি হলাম এলেমের শহর আর আমার এই এলেমের দরওয়াজা হযরত আলী (রাঃ)"। "রাসুল (সাঃ) স্বয়ং কুরআন এ জন্য যে কুরআনের এমন কোন বিধান নেই,যা রাসুলে পাক (সাঃ) এর জীবনে বাস্তবায়িত হয়নি। আর এই ধাঁচেই হযরত আলী (রাঃ)এর জীবন গঠিত। তার বাস্তব চিত্র রাসুলে পাক (সাঃ) এর ধরা না পরলে একমাত্র হযরত আলী (রাঃ) সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এ মুল্যবান মন্তব্য করতেন না। সে জন্যই বলতে হচ্ছে, কুরআনের বাস্তব নমুনা হযরত আলী (রাঃ)এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কুরআন বিধান। বাস্তবায়িত বিধান রাসুল (সাঃ)। অনুরুপ হযরত আলী (রাঃ)।যে পার্থক্য আছে তা সাধারণ্যের বোধগম্যেরর বাইরে। এই রাসুলে পাক সাঃ কে ছাহাবায় কেরাম স্বচহ্মে দেখতেন এবং হুবহু অনুকরন করতেন। যেই বিষয়টি বুঝতে কস্ট হতো, সেই বিষয় প্রশ্ন করে জেনে নিয়ে অনুরুপ অনুশীলন ও অনুকরণ করতেন। রাসুলে পাক সাঃ যে ভাবে চলতেন, খেতেন,হাটতেন,বসতেন,রোজা,নামাজ,
হজ্জ ইত্যাদি কায়েম ও আদায় করতেন অনুরুপ ছাহাবায়ে কেরাম অনুকরণ করতেন। অতএব রাসুলে পাক (সাঃ)এর সকল ক্রিয়া-কর্মই তরীকা। রাসুলে পাক (সাঃ) কোন কিছুই বলতেন না, যা তিনি করতেন না। কারন রাসুলে পাক (সাঃ)যা বলতেন, তা যদি বাস্তবে তিনি স্বয়ং না করতেন, তা হলে ছাহাবায়ে কেরাম কোন দিনই তা বাস্তবায়ন করতে সহ্মম হতেন না। সাধারন উম্মত তো নয়-ই। এই কারন ও বাস্তবায়নকে 'তরীকা 'বলা হয়। হযরত আলী (রাঃ) তাই সত্যই বলেছেন যে 'আমার কুরআন স্ববাক। 'অর্থাৎ আমি আলী (রাঃ)এর মধ্যে পবিত্র কুরআনের বিধান বাস্তবে বাস্তবায়িত।
তাই শরীয়ত বিধান,আইন, ল ক্যাটালক। এই আইন মোতাবেক কাজ করার নাম "তরীকা "।"চলবে

Thursday, 14 April 2016

বিভিন্ন যুদ্বের ময়দানে হযরত বিলাল(রাঃ) এর অবদানঃ





পবিত্র ইসলামের আলোর শিখাকে  অনির্বাণ  ওসমুজ্জ্বল রাখার জন্য মুসলিম বির সেনানীরদল শানিত কৃপান হস্তে শত্রুর মোকাবেলা করিবার জন্য ঝাঁপাইয়া পরিলেন যুদ্বের মোয়দানে। জামে শাহাদাতের প্রবল আকর্ষণ ও আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভের তীব্র অনুপ্ররনা তাহাদিগকে উজ্জীবিত করিয়া তুলিল। সত্য ,ন্যায়,এবং মঙ্গলের প্রতিষ্ঠার জন্য মুজাহিদ বাহিনী সদফা তৎপর হইয়া উঠিল। তাই প্রায় যুদ্বেই কোণ না কোণ কাজের জন্য ,তাহা না হইলেও অন্ততঃ আযান দেওয়ার জন্য হযরত বেলাল (রাঃ) এর নাম বিশেষ ভাবে স্বরনিয় হইয়া রহিয়াছে।তিনি যেসকল অভিযানে সক্রিয় অংশ গ্রহন করিয়াছিলেন, নিম্নে উহার সংক্ষিপ্ত পাঠক-পাঠিকাগনকে উপহার দেওয়া হইলঃ


বদরের যুদ্বঃ ১৭ই রমজানুল মোবারক,হিজরি ২য় শাল। কুরাইশদের বিরুদ্বে মহানবি (সাঃ)এর নেতৃতে ২৩৮ জন আনছার এবং ৮৬ জন মোহাজের লইয়া  গঠিত মুস্লিম বাহিনী মদিনা হইতে ৮০ মেইল দক্ষিণ পশ্চিমে বদরের উপত্যকায়  সমবেত হইলেন।আর আরিসা পাহাড়ের বাদ-দেশে মুসলিম শিবির স্থাপিত হইল শুক্রবারে শুরু হইল যুদ্ব।অসামান্য রন  নৈপুন্য, অপূর্ব  বিক্রম,অপরিসীম নিয়মানুবর্তিতার সংগে যুদ্ধ করিয়া মুসলমানগন  বদরের গুরুপ্তপূর যুদ্ধে জয়লাভ করেন। যুদ্ধে বিধর্মী কুরাইশদেরকে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হইতে হয়। এই যুদ্ধে ৭০জন কুরাইশ সন্য নিহত হয় সমসংখ্যা বন্দি হয় অপর দিকে মাত্র ১৪জন মুসলিম সন্য সাহাদাত বরন করেন। ঘৃনিত আবুজেহেল ও দুরাচার উমায়য়া এই যুদ্ধে নিহত হয়। হযরত বিলাল (রাঃ)এর পুর্বতন মালিক,যে তাঁহার উপর অমানুষিক বর্বরোচিত অত্যাচার করিয়াসিল,যে মহানবী (সাঃ)-কে ঘায়েল এবং ইসলামকে নির্মুল করিবার জন্য কোমর বাঁধিয়া লাগিয়াছিল,ইসলামের সেই প্রধান শত্রু উমাইয়া ইসামের বীর মুজাহিদ  হযরত বিলাল(রাঃ)-এর তীক্ষ্ণ তরবারির আঘাতে ধরাশায়ী হইয়াছিল। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে শত্রুরা পরাজিত হইয়া যখন পালায়ন  করিতেছিল,তখন দুরাচার উমায়া আসন্ন বিপদ দেখিয়া মদীনা পুরাতন বন্ধু আব্দুর রহমান ইবনে আঊফের সাহায্য প্রার্থনা করে

 আব্দুর রহমান বব্ধুত্ত্বের প্রতিশ্রতি অনুযায়ি তাহাকে বাচাইবার জন্য পশ্চাদ্ধাবসানকারী মুজাহেদিনের দৃষ্টির অগোচরে আকটি পাহাড়ের অন্তরালে লুকাইয়া থাকিবার পরামর্শ দিলেন।কিন্তু বিজয়ের আনন্দে মাতয়ারা বীর সৈনিক হযরত বেলাল (রাঃ) তাহাকে দেখিয়া ফেলিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য মুজাহেদীননের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠিলেন-;এই যে উমাইয়া ওতাহার ছেলে ---মহানবি (সাঃ) ও ইসলামের ঘোর শত্রু পাহাড়ের অন্তরালে পালাইয়া গেল। সে যদি বাচিয়া যায় তাহলে আমার বাচিয়া থাকা নিরর্থক। উমাইয়া ও তাহার ছেলে মুসলিম সিপাহিদের নজরে পরিয়া গেল। আর যায় কোথায়? হযরত বিলাল(রাঃ) ওকতিপয় মুসলিম সৈন্য উমাইয়ার উপর ঝাপায়া পড়িলেন। হতোদ্যম পরিশ্রান্ত উমাইয়া বেশিক্ষন টিকিয়া থাকিতে পারিলনা। হযরত বেলাল(রাঃ) এর তরবারির আঘাতে তাহার মস্তক ছিন্ন হইয়া যায়। তাহার পুত্র ও মুসলিম সেনাবাহিনির হাতে প্রান হারায়। আব্দুর রহমান তাহাকে বাচাইবার জন্য কোম চেষ্ঠা করেন নাই। কিন্তু এত বড় শ্ত্রুকে মুসলমানগণ যুদ্ধক্ষেত্র হইতে বাঁচিয়া যাইতে দিতে পারেন না। আব্দুর রহমান ছিলেন বন্ধু, তাই তিনি  বন্ধুত্ব রক্ষা করিয়া ছিলেন সত্য কিন্তু মুসলিম বাহিনিও নিজেদের কর্তব্য ও দায়িক্ত পালন করিয়া ছিলেন। সে পুত্রসহ বদরেই নিহত হয়েছিল। এই উমাইয়া কে বাচাইতে যায়া আব্দুর রহমান নিজেও ভীষণ রুপে আহত হইয়া ছিলেন,তিনি নিজের দুইটি লৌহ বর্ম হারাইয়া ছিলেন। তাই অনেক সময় অক্ষেপ করিয়া তিনি বলিতে যে, বিলাল (রাঃ)আমার বড় ক্ষতি করিয়াছে,আল্লাহপাক তাহাকে রহম দান করুন।    

    

Friday, 25 March 2016

ইমাম মালেক(রঃ) এর নবীপ্রেম


ইমাম মালিক (রঃ) দুনিয়াকে খুবই তুচ্ছ জানতেন। ইমাম শাফিয়ী(রঃ) বলেন, আমি একবার ইমাম মালিকের বাড়ীতে খোরাসানী ঘোড়া ও মিসরীয় খচ্চরের এমন উন্নতমানের একটি পাল দেখলাম, এর আগে যা আমি দেখিনি। আমি তাঁকে বললাম বেশ, কি চমৎকার পাল! তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ! এগুলো আমার পক্ষ থেকে তোমাকে হাদিয়া। আমি বললাম, আপনি নিজে চলার জন্য এর একটি রেখে দিন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহ তা’আলার কাছে লজ্জাবোধ করি, যে মাটিতে তাঁর নবী (সাঃ) শুয়ে আছেন, সে মাটি আমার ঘোড়া পদদলিত করবে?
তথ্যসূত্রঃ ইহইয়াউলুমদ্দিন, লেখকঃ ইমাম গাজ্জালী(রঃ)