Monday, 3 October 2016

৭২ জন শহিদে কারবালার নামঃ


আল্লাহ পাক শহীদে কারবালার আত্মত্যাগ এর বিনিময়ে ওনাদের উসীলায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা করে দিন।- আমিন
(1) হযরত সৈয়েদেনা ইমাম হুসাঈন ইবনে আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম) রাদিআল্লাহু
(2) হযরত আব্বাস বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল কারবলা)
(3) হযরতসৈয়েদেনা আলী আকবর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু )
(4) হযরত সৈয়েদেনা আলী আসগর বিন হুসাঈন (রাদিআল্লাহু)
(5) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন আলী (কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(6) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আলী( কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(7) হযরত সৈয়েদেনা উসমান বিনআলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল কারিম)
(8) হযরতসৈয়েদেনা আবু বকরবিন আলী(কাররামাহু ওয়াজাহুল
কারিম)
(9) হযরত সৈয়েদেনা আবু বকর বিন হাসান(রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(10) হযরত সৈয়েদেনা কাসিম বিন হাসান(রাদিআল্লাহুু)
(11) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন হাসান (রাদিআল্লাহু )
(12) হযরত সৈয়েদেনা আওন বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(13) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর
(রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)
(14) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিনআকীল(রাদিআল্
লাহু)
(15) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(16) হযরত সৈয়েদেনা মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আকীল
(রাদিআল্লাহু)
(17) হযরত সৈয়েদেনা আব্দুল রহমান বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(18) হযরত সৈয়েদেনা জাফর বিন আকীল(রাদিআল্লাহু)
(19) হযরত ওনস বিন হাস` আসাদী (রাদিআল্লাহু)
(20) হযরত হাবিব বিন মাজাহির আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(21) হযরত মুসলিম বিন আওসাজা আসাদী(রাদিআল্লাহু )
(22) হযরত কাইস বিন মাসহার আসাদী(রাদিআল্লাহু)
(23) হযরত আবু সামামা উমরু বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু
(24) হযরত বুরির হামদািন(রাদিআল্লাহু
(25) হযরত হানালাবিন আসাদ( রাদিআল্লাহু)
(26) হযরত আবিস শাকরি(রাদিআল্লাহু) (27) হযরত আব্দুল রহমান
রাহবি(রাদিআল্লাহু)
(28) হযরত সাইফ বিন হাস` (রাদিআল্লাহু)
(29) হযরত আমির বিন আব্দুল্লাহ হামদানি(রাদিআল্লাহু)
(30) হযরত জুনাদা বিন হাস`(রাদিআল্লাহু)
(31) হযরত মাজমা বিন আব্দুল্লাহ(রাদিআল্লাহু)
(32) হযরত নাফে বিন হালাল (রাদিআল্লাহু)
(33) হযরত হাজ্জাজ বিন মাসরুক (রাদিআল্লাহু) মুয়াজ্জিন এ
কাফেলা
(34) হযরত ওমর বিন কারজা (রাদিআল্লাহু)
(35) হযরত আব্দুল রহমান বিন আবদে রব(রাদিআল্লাহু)
(36) হযরত জুনাদা বিন কাব(রাদিআল্লাহু)
(37) হযরত আমির বিন জানাদা(রাদিআল্লাহু)
(38) হযরত নাঈম বিন আজলান(রাদিআল্লাহু)
(39) হযরত স্বাদ বিন হাস`(রাদিআল্লাহু) (40) হযরত জুহায়ের বিন
কাইন(রাদিআল্লাহু)
(41) হযরত সালমান বিন মাজারাইব (রাদিআল্লাহু)
(42) হযরত সাঈদ বিন ওমর(রাদিআল্লাহু)
(43) হযরত আব্দুল্লাহ বিন বাসির (রাদিআল্লাহু)
(44) হযরত ইয়াজিদবিন জাঈদ কানদি(রাদিআল্লাহু)
(45) হযরত হারব বিন ওমর উল কাইস(রাদিআল্লাহু
(46) হযরত জাহির বিন আমির(রাদিআল্লাহু:)
(47) হযরত বাসির বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(48) হযরত আব্দুল্লাহ আরওয়াহ গাফফারি(রাদিআল্লাহু)
(49) হযরত জন (রাদিআল্লাহু)
(50) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমির(রাদিআল্লাহু)
(51) হযরত আব্দুল আলা বিন ইয়াজিদ (রাদিআল্লাহু)
(52) হযরত সেলিম বিন আমির(রাদিআল্লাহু) আজদী
(53) হযরত কাসিম বিন হাবীব(রাদিআল্লাহু)
(54) হযরত জায়েদ বিন সেলিম (রাদিআল্লাহু)
(55) হযরত নোমান বিন ওমর (রাদিআল্লাহু) আবদী
(56) হযরত ইয়াজিদ বিন সাবিত (রাদিআল্লাহু)
(57) হযরত আমির বিন মুসলিম (রাদিআল্লাহু)
(58) হযরত সাইফ বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(59) হযরত জাবির বিন হাজ্জজি(রাদিআল্লাহু)
(60) হযরত মাসুদ বিন হাজ্জজি (রাদিআল্লাহু)
(61)হযরত আব্দুল রহমান বিন মাসুদ(রাদিআল্লাহু)
(62) হযরত বাকের বিন হাই
(63) হযরত আম্মার বিন হাসান তাই(রাদিআল্লাহু)
(64) হযরত জুরঘামা বিন মালিক (রাদিআল্লাহু)
(65)হযরত কানানা বিনআতিক(রাদিআল্লাহু)
(66) হযরত আকাবা বিন স্লাট (রাদিআল্লাহু)
(67)হযরত হুর বিন ইয়াজিদ তামিমি (রাদিআল্লাহু)
(68) হযরত আকাবা বিন স্লট (রাদিআল্লাহু)
(69) হযরত হাবালা বিন আলী শিবানী (রাদিআল্লাহু)
(70) হযরত কানাবা বিন ওমর(রাদিআল্লাহুতায়াল আনহু)
(71) হযরত আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকতার (রাদিআল্লাহু তায়ালা
আনহু)
(72) হযরত গোলাম এ তুরকি (রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু)

Monday, 26 September 2016

পরহেজগারীর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব


পরহেজগারীর সংজ্ঞা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তরিকতের ইমাম হযরত মুজাদ্দেদ আলফেছানী(রাঃ) ছাহেব যা বলেনঃ
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তিগণের সম্পর্কে খোশ খবর দিয়াছেন। তিনি কখনও বলিয়াছেন যে, তাহারা মুক্তিপ্রাপ্ত।কখনও বলিয়াছেন, সাফল্যের অধিকারী তাহারাই। বাস্তবিকই, দুনিয়া এবং আখেরাতের সমুদয় ইজ্জত ও কল্যাণের অধিকারী মুত্তাকী বা পরহেজগার ব্যক্তিগণই। সুতরাং তাকওয়া বা পরহেজগারীর সঠিক সংজ্ঞা জানা আমাদের কর্তব্য।
হযরত মুজাদ্দেদ আলফে-ছানী (রাহঃ) বলেনঃ
....... অতএব পরকালে মুক্তিলাভ হওয়া দুইটি কাজের উপর নির্ভর করে।
প্রথমতঃ আল্লাহ্তায়ালা যে আদেশ করিয়াছেন তাহা পালন করা।
দ্বিতীয়তঃ তিনি যাহা নিষেধ করিয়াছেন, উহা হইতে বিরত থাকা।
উক্ত দুইটির মধ্যে দ্বিতীয়টিই প্রধান। আর এই দ্বিতীয়টির নামই তাক্ওয়া বা পরহেজগারী।
একদা হযরত নবী করীম (ছঃ) এর পাক দরবারের কোন এক ব্যক্তিকে এবাদতে কঠোর সাধনাকারী এবং অপর একজনকে পরহেজগার বলিয়া উল্লেখ করা হইল। তাহা শুনিয়া হযরত নবী করীম (ছঃ) উপস্থিত লোকদের বলিলেন, তোমরা পরহেজগারীর সহিত অন্য কিছুরই তুলনা করিও না। জানিয়া রাখ, পরহেজগারী তোমাদের ধর্মের মূল এবং পরহেজগারীর কারণেই মানুষ ফেরেস্তা হইতে শ্রেষ্ঠতর মর্যাদার অধিকারী। (মকতুব নং ৭৬, প্রথম খন্ড)

Saturday, 10 September 2016


আসরের ওয়াক্ত শুরু। সবাইকে নামাজ পড়তে হবে। অজুর জন্য পানির প্রয়োজন। কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছে না।নবীজীর(সাঃ) সামনে একটি পাত্রে সামান্য একটু পানি যা দিয়ে একজনের অজুও হয় না। সাহাবীদের সংখ্যা অনেক। নবীজী(সাঃ) তাঁর সামনে রাখা পাত্রের পানিতে তদীয় পবিত্র হস্ত মুবারক রাখলেন।আর ততক্ষনাৎ তাঁর আংগুলের ফাক দিয়ে পানি উথলে উঠা শুরু করল। নবীজী(সাঃ) সবাইকে দ্রুত অজু সেরে নিতে বললেন। সবাই অজু করলেন। শেষে নবীজীও করলেন। হাদীসের বর্ণনায়----
একঃ
আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ (রঃ).....আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন উযূর পানি তালাশ করতে লাগল কিন্তু পেল না। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে তা থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উথলে উঠছে। এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর‌্যন্ত তা দিয়ে উযূ করল। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, ১৭০ নং হাদিস, ইফা)
দুইঃ
‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুনীর (রঃ)..... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাঢ়ী নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ী চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যাবস্থা ছিল না)। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্য পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলামঃ ‘আপনারা কতজন ছিলেন’? তিনি বললেনঃ ‘আশিজন বা আরো বেশী। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, ১৯৫ নং হাদিস, ইফা)

হযরত আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ ???


মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) অসুস্থ আবু বকর (রাঃ)-কে দেখতে গেলেন। তখন তিনি সেখান থেকে বের হয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ)-র কাছে তাশরীফ নিলেন। উদ্দেশ্য, তাঁকে তাঁর পিতার অসুস্থতার সংবাদ দেওয়া। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘরে প্রবেশ করা মাত্র হযরত আবু বকর (রাঃ) দরজার বাইরে থেকে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, আব্বাজান দেখি তাশরীফ নিয়ে এসেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) খবই আশ্চর্য প্রকাশ করতে লাগলেন যে, আল্লাহ্ পাক এত দ্রুত তাকে আরোগ্য দান করেছেন। হযরত আবু বকর (রাঃ) আরয করলেন, হুজুর! আপনি বের হওয়া মাত্রই হযরত জিব্রাইল (আঃ) আগমন করলেন এবং আমাকে একটি ঔষুধ শুঁকালেন, আর সাথে সাথে আমি সুস্থ হয়ে উঠলাম।
ইবনে আবুদ্দিনার ও ইবনে আসাকিরও এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
[তথ্যসূত্রঃ মাকামে সাহাবা ও কারামতে সাহাবা]

Thursday, 8 September 2016

স্বপ্ন তিন প্রকার


আমরা ঘুমালে অনেক কিছু স্বপ্নে দেখি। কখনওবা আনন্দদায়ক স্বপ্ন, কখনওবা কষ্টদায়ক স্বপ্ন, আবার কখনওবা ভীতিকর স্বপ্ন দেখি। কিন্তু স্বপ্নের অর্থ আমরা বুঝি না। কোন্ স্বপ্ন দেখলে কি করতে হবে তাও আমরা জানি না। এ সম্পকে আমাদের প্রিয় নবীজী(সাঃ) যে দিক-নিদেশনা দিয়েছেন তা নীচে তুলে ধরা হলো।

আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রঃ).…আবু হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকার।
(১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ,
(২)মনের খেয়াল, আর
(৩) শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন।
কাজেই তোমাদের কেউ কোন পসন্দনীয় জিনিস স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অন্যের কাছে বলতে পারে। আর কেউ কোন অপসন্দীয় জিনিস স্বপ্নে দেখলে তা কারো কাছে বলবে না, আর সে যেন উঠে সালাত আদায় করে। (সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৬, ই,ফা)

স্বপ্ন তিন প্রকার
অন্য এক বণনায়ঃ
হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রঃ)…আওফ ইব্‌ন মালিক (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ স্বপ্ন তিন প্রকারঃ
(এক) শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিজনক স্বপ্ন যা বনী আদমকে চিন্তাগ্রস্ত করে।
(দুই) মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা দেখলে চিন্তাযুক্ত হয়, স্বপ্নে তা দেখা।
(তিন) স্বপ্ন হলো নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
রাবী বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হাঁ, আমি তা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শুনেছি।(সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৭, ই,ফা)
কেউ অপসন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে-
মুহাম্মদ ইব্‌ন রুম্হ আল-মিসরী (রঃ)….জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ অপসন্দনীয় স্বপ্ন দেখে তখন সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে, তিনবার আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে পানাহ চায়(‘‘আউযূ বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম” পড়ে)এবং সে যে পাশে কাৎ হয়ে শুয়ে ছিল তা যেন পরিবর্তন করে নেয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ্, হাদিস নং-৩৯০৮, ই,ফা)

Monday, 29 August 2016

নবীজী(সাঃ)কে মেঘের ছায়া প্রদান


চাচা আবূ তালিব বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। সে সয়ম দাদা আবদুল মুত্তালিব গত হয়েছেন। বালক রাসূলুল্লাহ্ (সা) চাচার পরিবারভুক্ত হয়ে আছেন।
আবূ তালিব যখন রওয়ানা হবেন, চাঁদের মত সুন্দর বালক মুহাম্মদ (সা) এসে আবূ তালিবের জামার আস্তিন ধরে দাঁড়ালেন। ভাতিজার দিকে চেয়ে তিনি বললেনঃ ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না, আমাকে ছাড়া সেও থাকতে পারবে না। ওকে আমার সাথে নিয়ে যেতে হবে। রাসূলুল্লাহ্ (সা) এভাবে আবূ তালিবের বাণিজ্য কাফেলার অন্তভুক্ত হলেন।
সিরিয়ার বুসরা একটি বিখ্যাত এলাকা। অন্যানা বারের মত কাফেলা এখানে যাত্রাবিরতি করল। এখানকার বিখ্যাত খৃস্টান গির্জায় বাহিরা নামক একজন সাধক পাদ্রী থাকতেন। এ বিশাল এলাকার লোকজন ধর্মজ্ঞান ও সাধনার জন্য তাঁর প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল ছিল। এ গির্জায় দীর্ঘদিনের পুরানো এক আসমানী গ্রন্থ রক্ষিত ছিল। সে যুগে এটিকেই একমাত্র ঐশী জ্ঞানের আধার বলে মনে হতো।
সাধক বাহিরার বৈশিষ্ট ছিল, তিনি লোকসমক্ষে বের হতেন না। কথাবার্তাও বলতেন না। এবার মক্কায় এ কাফেলা যখন এ গির্জার অনতিদূরে যাত্রাবিরতি করল, আশ্চার্যজনকভাবে বাহিরা এ কাফেলার জন্য আপ্যায়নের প্রচুর ব্যবস্থা করলেন। প্রকৃত ব্যাপার ছিল, প্রচন্ড রোদের ভিতর দিয়ে এ কাফেলা যখন গির্জার দিকে এগিয়ে আসছিল, বাহিরা তখন অলস চোখে সেদিকে তাকিয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি অত্যাশ্চার্য দৃশ্য দেখে চমকে উঠলেন। তিনি দেখলেন, একখন্ড ঘন মেঘ কাফেলার মধ্যকার অনিন্দ্য সুন্দর এক কিশোরের উপর ছায়া বিস্তার করে সাথে সাথে আসছে। অবাক হয়ে বাহিরা গভীর মনোযোগের সাথে তা দেখতে লাগলেন।
কাফেলা যখন গির্জান কাছে একটি বড় বৃক্ষের নিচে ক্যাম্প করল, গাছের একটি শাখা ইষৎ নত হয়ে ঐ কিশোরের উপর পরিপূর্ণ ছায়া দান করে স্থির হয়ে রইল। ঐ চলন্ত মেঘ খন্ডটিও তাঁর উপর স্থির হয়ে থাকল। বাহিরা ভোজের আয়োজন করলেন। বাহিরা তাঁর সুদীর্গকালের নিয়ম ভেঙে গির্জা থেকে বের হয়ে এলেন এবং লোক পঠিয়ে কাফেলার লোকদের দাওয়াত করলেন। বলে পাঠালেন, আমি আপনারদের ছোট-বড়, আযাদ-গোলাম সকলেই এ ভোজে শামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার এখানে খাদ্যগ্রহণ করে আপনারা আমাকে বাধিত করিবেন।
কাফেলার একজন অবাক হয়ে বললেনঃ জনাব! আপনি আজ আপনার দীর্ঘকালের অভ্যাসের ব্যতিক্রম করে অভিনব কাজ করলেন। কতবার এ পথে যাতায়াত করেছি, আপনাকে তো কখনও গির্জার বাইরে বের হতে দেখিনি বা এরুপ কারও জন্য ভোজের ব্যবস্থা করতেও দেখিনি।
বাহিরা প্রকৃত ব্যাপার এড়িয়ে গেলেন। বললেনঃ আজ যেহেতু আপনারা আমার খুব কাছাকাছি যাত্রাবিরতি করলেন, তাই আপনারা আমার মেহমান। খাদ্য তৈরি হচ্ছে, আপনারা তা গ্রহণ করবেন, এ আমার অনুরোধ। কাফেলার লোকেরা খেতে গেল। মালামাল প্রহরার প্রয়োজনে এবং অল্পবয়সী বিধায় রাসূল (সা) গাছের নিচেই রয়ে গেলেন।
বাহিরা গির্জা থেকে বের হয়ে এলেন। তীক্ষ্ণ চোখে কাছ থেকে সকলকে জরিপ করে তিনি হতাশ হলেন। বললেনঃ হে কুরায়শী মেহমানগণ! আপনারদের মাঝে কেউ কি এখানে আসতে বাকি রয়ে গেছে ? লোকেরা বললঃ আসার মত যারা সকলেই এসে গেছে। কেবল একজন বালক রয়ে গেছে। বাহিরা চমকে উঠলেন। বললেনঃ কক্ষণও না। কাউকেই দয়া করে বাকি রাখবেন না। কুরায়শের এক সরদারও তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে উঠলো, লাত ও উজ্জার কসম! আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র কাফেলার আছে অথচ আমাদের সাথে ভোজে শরীক হবে না এ কখনও হতে পারে না। এটা আমাদের সকলের জন্য বড় নিন্দনীয় ব্যাপার। এ সরদার নিজেই উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে কোলে করে নিয়ে এলো এবং খাদ্যের সামনে বসিয়ে দিল।
এবার কাছ থেকে বাহিরা তাঁকে গভীরভাবে নিরীক্ষণের সুযোগ পেলেন। পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থগুলো সম্পর্কে তার অসাধারণ ইলেম ছিল। সেগুলোর মাঝে শেষ রাসূল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী ও বিশেষ বিশেষ লক্ষণসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা বিদ্যমান ছিল। বাহিরার অন্তরে সব কিছু স্পট হয়ে গেল। খুশিতে আত্মহারা হলেন তিনি।
সকলে খেয়েদেয়ে চলে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর কাছে এসে তিনি বসলেন। গম্ভীর স্বরে বললেনঃ “বালক! আমি তোমাকে লাত ও উজ্জার কসম দিয়ে বলছি- আমার কিছু প্রশ্নের তুমি জবাব দেবে।” বাহিরা জনৈক কুরায়শীকে ইতিপূর্বে লাত ও উজ্জার কসম দিতে শুনেছিলেন, তাই এরুপ বললেন। কিশোর রাসূলুল্লাহ্ (সা) বাধা দিয়ে বললেনঃ আমাকে এ লাত ও উজ্জার কসম দিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। আল্লাহর কসম, এ দেবতাদের আমি সবচেয়ে ঘৃণা করি। বাহিরা বললেনঃ বেশ তো আল্লাহর কসম বলছি। রাসূল (সা) বললেন ঃ ঠিক আছে, কি জানতে চান বলুন। বাহিরা তাঁকে অনেক কথা জিজ্ঞেস করলেন। খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের বিভিন্ন অভ্যাসের কথা জিজ্ঞেস করে জানলেন। দেহের গঠন-প্রকৃতি বিশেষভাবে লক্ষ্য করলেন। বিশেষত তাঁর পৃষ্টাদেশ দেখলেন। তাতে মোহরে নবুওয়াত বর্ণিত মতে দেখতে পেলেন। বিস্ময়ে আনন্দে বিহবল হয়ে বাহিরা দেখলেন, সবই পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থসমূহের বর্ণনার সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেছে।
তারপর বাহিরা আবূ তালিবকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ছেলেটি কে ? আবূ তালিব বললেনঃ আমার। বাহিরা বললেনঃ কিন্তু এ ছেলের তো পিতা জীবিত থাকার কথা নয়। আবূ তালিব বললেনঃ “আসলে সে আমার ভাতিজা।” বাহিরা জিজ্ঞেস করলেনঃ তাঁর পিতার কি হয়েছে ? বললেনঃ তার মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ই পিতা ইন্তিকাল করেন।
চমৎকৃত হয়ে বাহিরা বললেন, এরকমই তো হওয়ার কথা। আপনি আপনার ভাতিজাকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যান। ইহুদীদের থেকে তাকে সাবধানে আগলে রাখবেন। আল্লাহর কসম ! ওরা যদি একে দেখতে পায় এবং নিদর্শনাবলি থেকে আমি যেমন চিনতে পেরেছি ওরাও তেমনি চিনে ফেলতে পারে তবে ওরা এ বালকের ক্ষতি করার সমূহ চেষ্টা করবে। কারণ আপনার ভাতিজাই ভবিষ্যত মানবজাতির পথপ্রদর্শক-নবী। একথা শুনে আবূ তালিব সেখানেই দ্রুত তাঁর মালামাল বিক্রয় করে দিলেন। আশাতীত মুনাফা হলো এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-কে নিয়ে দ্রুত দেশে ফিরে এলেন।
তথ্যসূত্র
• মাদারেজুন্নাওয়াত
• রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর জীবনে আল্লাহর কুদরত ও রুহানিয়াত (লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর হামিদী, প্রকাশকঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)

আসরের ওয়াক্ত শুরু

আসরের ওয়াক্ত শুরু। সবাইকে নামাজ পড়তে হবে। অজুর জন্য পানির প্রয়োজন। কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছে না।নবীজীর(সাঃ) সামনে একটি পাত্রে সামান্য একটু পানি যা দিয়ে একজনের অজুও হয় না। সাহাবীদের সংখ্যা অনেক। নবীজী(সাঃ) তাঁর সামনে রাখা পাত্রের পানিতে তদীয় পবিত্র হস্ত মুবারক রাখলেন।আর ততক্ষনাৎ তাঁর আংগুলের ফাক দিয়ে পানি উথলে উঠা শুরু করল। নবীজী(সাঃ) সবাইকে দ্রুত অজু সেরে নিতে বললেন। সবাই অজু করলেন। শেষে নবীজীও করলেন। হাদীসের বর্ণনায়----
একঃ
আবদুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ (রঃ).....আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন উযূর পানি তালাশ করতে লাগল কিন্তু পেল না। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে তা থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উথলে উঠছে। এমনকি তাদের শেষ ব্যক্তি পর‌্যন্ত তা দিয়ে উযূ করল। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, ১৭০ নং হাদিস, ইফা)
দুইঃ
‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন মুনীর (রঃ)..... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাঢ়ী নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ী চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যাবস্থা ছিল না)। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্য পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলামঃ ‘আপনারা কতজন ছিলেন’? তিনি বললেনঃ ‘আশিজন বা আরো বেশী। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, ১৯৫ নং হাদিস, ইফা)